Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
পরীক্ষার সাত মাস পরেও ফল প্রকাশ না হওয়ার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষাক্রম বিষয়ে আলোচনারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নিউজলেটার বিদ্যাবার্তা’র দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছেতিস্তা নদীতে খনন ও বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীরারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বষের্র ভর্তি-পরীক্ষা আগামী ২০-২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে

গ্রন্থাগারবিমুখ শিক্ষার্থীরা

অনুধ্যান প্রতিবেদক

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ০৮:৫২ পিএম, ২ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার

বিভিন্ন প্রকারের বই, জার্নাল, পত্রিকা ও সাময়িকীতে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ সময়ে এভাবেই ফাঁকা থাকে রাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার পড়ার রুমগুলো। ১৩ জুন ২০১৫ বিকেল পাঁচটায় তোলা    ছবি : ওয়াসিফ করিম

বিভিন্ন প্রকারের বই, জার্নাল, পত্রিকা ও সাময়িকীতে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ সময়ে এভাবেই ফাঁকা থাকে রাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার পড়ার রুমগুলো। ১৩ জুন ২০১৫ বিকেল পাঁচটায় তোলা ছবি : ওয়াসিফ করিম

প্রায় সাড়ে তিন লাখ  গ্রন্থ থাকলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটির সদ্ব্যবহার হচ্ছে না। গতানুগতিক নোটনির্ভর হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা দিন দিন লাইব্রেরি বিমুখ হচ্ছে। ফলে গ্রন্থসমৃদ্ধ গ্রস্থাগারটি ফাঁকা পড়ে থাকছে।

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সূত্রে জানা গেছে, গ্রন্থাগারটিতে বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার বই, সাময়িকী ও জার্নাল সংগৃহীত রয়েছে। এর মধ্যে ২ লাখ ৯৯ হাজার বই এবং ৪০ হাজার সাময়িকী রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি নতুন করে এক কোটি টাকার বই কেনা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রন্থাগার ভবনের নিচতলায় রয়েছে অফিস এবং বিভিন্ন পত্রিকা ও জার্নালের সমাহার। প্রধান গেইট দিয়ে নিচতলার সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠতেই দুই পাশে রয়েছে ক্যাটালগ কেবিনেট বক্স। বক্সগুলোতে গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত বইগুলোর বিস্তারিত তথ্যের কার্ড রয়েছে যার মাধ্যমে কোন বই কোথায় কোন সেলফে রয়েছে তার দিকনির্দেশনা রয়েছে। ভবনের দ্বিতীয় তলায় ২০১ নম্বর কক্ষে কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, বিজনেস স্টাডিজ ও আইন অনুষদভুক্ত এবং ২০২ নম্বর কক্ষে বিজ্ঞান, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান এবং কৃষি অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোর বই রয়েছে। ২০৩ নম্বর কক্ষে রয়েছে রেফারেন্স শাখা যেখানে আছে বিভিন্ন বিষয়ের অভিধান, বিশ্বকোষ, ম্যানুয়াল, ডাইরেক্টরি ইত্যাদি।

২০৪ নম্বর কক্ষে ডকুমেন্টেশন অ্যান্ড রেয়ার শাখায় রাবি থেকে দেয়া বিভিন্ন এমফিল ও পিএইচডি গবেষণার থিসিস পেপার, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, রবীন্দ্র ও নজরুল রচনাবলী, শাহনামা, গেজেটিয়ার, জাতিসংঘ, ইউনেস্কো, ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকাশনাসহ দু®প্রাপ্য অনেক সংগ্রহ রয়েছে।

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বর্তমানে গ্রন্থাগারটিকে অনেকটাই ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। গ্রন্থাগার বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য, রেফারেন্স, জার্নাল, গবেষণাপত্রসহ গ্রন্থাগারের সবকিছু প্রায় এখন ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। তথ্য সরবরাহের জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করা হচ্ছে। গ্রন্থাগারে ৮৭০ জন ইন্টারনেট ল্যাব কার্ডধারী শিক্ষার্থী ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন।

এতো সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও দিন দিন গ্রস্থাগারে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা কমছে। শিক্ষার্থীরা দিন দিন গতানুগতিক নোটনির্ভর হয়ে যাওয়ায় গ্রন্থাগারে যাওয়ার প্রবণতা কমে গেছে। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পড়ালেখা করতে আসা বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এমনটাই বলেছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী নুসাইফা রিন্তা নূর বলেন, ‘লাইব্রেরিতে দুই থেকে আড়াই হাজার শিক্ষার্থী একসাথে পড়ালেখা করতে পারেন। অনেক আসন ফাঁকা আছে কিন্তু পড়ার লোক নেই। গ্রন্থাগারে হাজার হাজার বই, সেগুলোর নিজ নিজ স্থানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো শুধুই সাজানো, এই মহামূল্যবান জ্ঞানভা-ার থেকে জ্ঞান আহরণ করে খুবই অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী।’ তিনি আরও বলেন- আমরা যদি অপ্রয়োজনে সময় নষ্ট না করে লাইব্রেরিতে বসে নিয়মিত পড়াশোনা করি তাহলে আমাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে ভবিষ্যত জীবনও উজ্জ্বল হবে।’

বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে যে এতো মূল্যবান বই এবং পড়ার মনোরম পরিবেশ রয়েছে আগে জানতাম না। এখন শেষ বয়সে এসে নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গ্রন্থাগারকে পরম বন্ধু মনে করে সেখানেই সারাদিন কাটাতাম তাহলে নিজেকে কিছুটা হলেও সমৃদ্ধ করতে পারতাম। কিন্তু আমরা ট্রেডিশনাল নোটের প্রতি আসক্ত ছিলাম। বিভাগের বড় ভাই-বোনদের নিকট থেকে ট্রেডিশনাল নোট নিয়ে সেগুলো পড়ে পরীক্ষা দিতাম। আমার বিশ্বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব বিভাগের হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাড়া তারা সবাই আমার মত ট্রেডিশনাল নোট পড়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ফলে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থাকে অনেকটা শিক্ষার্থীশূন্য।’

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসক অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে হাজার হাজার বই, ইন্টারনেট সুবিধা, অসংখ্য সাময়িকী রয়েছে। যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানভা-ারকে যথেষ্ট সমৃদ্ধ করতে পারেন। কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরিতে আসেন না। আগের মতো শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা কিংবা মানসম্মত গবেষণা করেন না। শিক্ষার্থীরা অনেকটা ট্রেডিশনাল নোটনির্ভর হয়ে যাওয়ার কারণে এমনটা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং হতাশার বিষয়।’