Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষাবৃত্তির জন্য ৫০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাহবুবুল আলম রাজাবর্ণিল ও বিচিত্র আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপিত হয়েছেশেষ হলো সপ্তাহব্যাপী ডেটা জার্নালিজম কর্মশালা‘ ডেটা জার্নালিজম ইন নিউজরুম: হাউ টু ইউজ ডেটা ফর এ গুড স্টোরি‘ কর্মশালার পঞ্চম দিনে শিক্ষার্থীরা অনলাইন সংবাদ-সাইট থেকে ডেটা সংগ্রহ, ডেটা তৈরি এবং সে ডেটা আবার নতুন রূপে উপস্থাপন করার কৌশল শিখেছেন

হল পাঠকক্ষে আসন-সঙ্কট

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ১০:৩৫ এএম, ২৫ এপ্রিল ২০১৭ মঙ্গলবার

কেবল শহীদ হবিবুর রহমান হলের পাঠকক্ষে আছে পড়াশোনা করার মতো উপযোগী পরিবেশ

কেবল শহীদ হবিবুর রহমান হলের পাঠকক্ষে আছে পড়াশোনা করার মতো উপযোগী পরিবেশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু আবাসিক হলে পাঠকক্ষ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। আর যেসব হলে পাঠকক্ষ রয়েছে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে সেখানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। পাঠকক্ষে পাঠোপযোগী পরিবেশের অভাব, সীমিত আসন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকা, পাঠসহায়ক বই না থাকা এমনকি পাঠকক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকারও অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। এসব কারণে হলের ভেতর পড়াশোনা করতে কষ্ট হচ্ছে বলে জানান তারা।

শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৭ টি আবাসিক হলের মধ্যে শাহ মখদুম, নবাব আবদুল লতিফ, মাদার বখশ ও সদ্য নির্মিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হলে কোনো পাঠকক্ষ নেই। মাদার বখশ হলে আলাদা করে হল লাইব্রেরি  থাকলেও তা তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে। যেসব হলে পাঠকক্ষ রয়েছে সেখানে নেই পড়াশোনা করার মতো উপযোগী পরিবেশ। এছাড়া চারজনের কক্ষগুলোতে নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করা সম্ভব হয় না বলে পাঠকক্ষের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান শিক্ষার্থীরা। তবে হলগুলোর মধ্যে কেবল শহীদ হবিবুর রহমান হলের পাঠকক্ষের পরিবেশ  বেশ ভালো। সেখানে বেশ বড় পাঠকক্ষ রয়েছে, এক সঙ্গে অন্তত ৬০/৭০ জন শিক্ষার্থী এই কক্ষে পড়তে পারে।

পাঠকক্ষের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মাদার বখশ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মামুনুর রশীদ জানান,হলের বরাদ্দ সিটের সঙ্গে থাকা টেবিলগুলোতে বই রাখার পর পড়ার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। এছাড়াও চার সিটের রুমে চারজন একসাথে নির্বিঘ্নে পড়া সম্ভব হয় না। একারণে হলের ভেতর পাঠকক্ষ থাকা খুব প্রয়োজন।

শাহ মখদুম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সায়েক জানান, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার রাত আটটার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আমাদের হলে এসে পড়াশোনা করতে হয়। কিন্তু হলে পাঠকক্ষ না থাকায় চারজনের সিটের রুমে পড়াশোনা করতে সমস্যা হয়।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোর গণরুমগুলোতে একই রুমে কমপক্ষে ৭০/৮০ জনকে থাকতে হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে তার থেকেও বেশি শিক্ষার্থী গণরুমে থাকেন। কিন্তু গণরুমগুলোতে পড়ার জন্য আলাদা টেবিলের ব্যবস্থা নেই। এসব ছাত্রীর পড়াশোনার জন্য আলাদা পাঠকক্ষের প্রয়োজনীতার কথা জানান আবাসিক শিক্ষার্থীরা। ছাত্রী হলগুলোতে পাঠকক্ষ থাকলেও পাঠপোযোগী পরিবেশের অভাব, সীমিত আসন সংখ্যা এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ তুলে ধরেন তারা।

রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সিবিশা আকতার সাথী জানান, এই হলে একটি পাঠকক্ষ আছে। তবে সেখানে আসন সংখ্যা খুবই সীমিত। এছাড়া পাঠকক্সে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করা যায় না।

সদ্য নির্মিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হলের পাঠকক্ষ নেই বলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে। এই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বৃষ্টি বলেন, যেকোনো হলে সর্বপ্রথম পাঠকক্ষ ঠিক করা উচিত। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য পড়াশোনা করা। এজন্য পাঠ সহায়ক সকল ব্যবস্থা হলে থাকা উচিত।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যেসব হলে পাঠকক্ষ আছে সেখানেও নানা সমস্যা রয়েছে। পাঠকক্ষগুলোর মূল সমস্যা আসন সংখ্যা। পর্যাপ্ত পরিমাণ চেয়ার এবং টেবিল না থাকায় একসঙ্গে অনেকেরই পড়া সম্ভব হয় না। সৈয়দ আমীর আলী হলে পাঠকক্ষ আছে। তবে সেই পাঠকক্ষে আসন সংখ্যা খুবই সীমিত। পড়ার জন্য মাত্র তিনটি টেবিল রয়েছে, বসার জন্য তেমন ব্যবস্থাও নেই।

এই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জয় বাবু জানান, পরীক্ষার সময় রাত জেগে পড়াশোনা করতে হলে রুমমেটরা বিরক্ত হয়। কিন্তু আসন কম থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাঠকক্ষে পড়ার সুযোগ হয় না। 

হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহবায়ক প্রফেসর ড. মো. আনিসুর রহমান এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, হলগুলোর যে অবকাঠামো আছে তাতে প্রত্যেকটি হলে আলাদা করে কক্ষ নেই যেটাকে পাঠকক্ষ হিসেবে তৈরি করা যায়। এছাড়াও তিনি পাঠকক্ষ ব্যবস্থাপনার জন্য লোকবলের ঘাটতিকে তুলে ধরেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি তিনি জানতেন না বলে জানান। তিনি বলেন, পাঠকক্ষ সঙ্কটের বিষয়টি নিয়ে হলগুলোর প্রাধ্যক্ষদের সাথে যোগাযোগ করা হবে। এছাড়া এই সংকট কাটিয়ে পাঠকক্ষগুলোর সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার ব্যাপারে জোর দেওয়া হবে।

 প্রতিবেদক দল: অশোক চক্রবর্তী, মো: মাননু মিয়া, আহসান হাবীব , মোছা: তাসনিয়া খাতুন , রকিবুল ইসলাম, পপি সরদার, প্রতিমা সরকার,  মো: মাসুদ রানা, মো: মামুনার রশিদ, মো: রাশেদুল ইসলাম