Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষাবৃত্তির জন্য ৫০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাহবুবুল আলম রাজাবর্ণিল ও বিচিত্র আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপিত হয়েছেশেষ হলো সপ্তাহব্যাপী ডেটা জার্নালিজম কর্মশালা‘ ডেটা জার্নালিজম ইন নিউজরুম: হাউ টু ইউজ ডেটা ফর এ গুড স্টোরি‘ কর্মশালার পঞ্চম দিনে শিক্ষার্থীরা অনলাইন সংবাদ-সাইট থেকে ডেটা সংগ্রহ, ডেটা তৈরি এবং সে ডেটা আবার নতুন রূপে উপস্থাপন করার কৌশল শিখেছেন

স্বপ্নের রোদ-ওঠা প্যারিস রোড

সৈকত আবদুর রহিম

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ১১:০৪ পিএম, ২ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার

স্বপ্নের রোদ-ওঠা প্যারিস রোড

স্বপ্নের রোদ-ওঠা প্যারিস রোড

নদীর মতো বয়ে চলা রাস্তাটার বুকে যেন মায়ের আদর-স্নেহে জড়িয়ে আছে। প্রশস্ত রাস্তার  দুই ধারে সারি সারি গগনশিরীষ গাছ মাথা উঁচু করে নিজের বিশালত্ব ঘোষণা করছে। গাছের ডাল আর পাতারা পরম আত্মীয়ের মতো একে অপরকে জড়াজড়ি করে সুখ-দুঃখের ভাগ নিচ্ছে। রাস্তাটির এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে  চোখ তুলে সামনে তাকালে মনে হয় সবুজের ছাদের নিচে দাঁড়িয়ে আছি। তখন বুকের ভেতর প্রশান্তি আসে। অনেক দিনের জমানো ব্যথাও যেন ছুটি নিতে চায়।

রাস্তাটির নাম প্যারিস রোড। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের সামনে থেকে কাজলা গেট পর্যন্ত বয়ে চলা  রাস্তাটি বিকেল হলেই শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ নানা পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। সব সময় এই রাস্তায় মানুষ চলাচল করলেও বিকেল হলে যেন মেলা মেলা মনে হয়।

তখন ১৯৬৬ সাল। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজ চলছে। সেসময়ের  শ্রেণির মানুষের উপাচার্য এম. শামসুল হক ফিলিপাইন থেকে রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা গগনশিরীষ গাছগুলো নিয়ে আসেন। গাছগুলো লাগানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়  উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষক প্রফেসর এ টি এম নাদিরউজ্জামানকে। রাস্তাটির সঙ্গে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের রাস্তাগুলোর অনেকটা মিল খুঁজে পাওয়া যায় বলেই সবাই একে প্যারিস রোড বলে ডাকে।

এখানে হাঁটতে আসা মার্কেটিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাসান-উদ্দৌলার সাথে কথা হয়। তাঁর ভাষায়,  এখানে হাঁটতে আসা মানেই প্রশান্তিকে খুঁজে পাওয়া। বিকেলের সবটুকু স্নিগ্ধতা এই পথে এসে ভিড় করে। চোখ জুড়িয়ে যায়। মানসিক প্রশান্তিতে মন ভরে যায়। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর হৈ-হুল্লোর করতে থাকা একদল শিক্ষার্থীর দেখা মেলে। তাদের কেউ একজন জোরে জোরে গান গাওয়ায় ব্যস্তÍ। সাথের অন্য সবাই গানে তাল দিচ্ছে। একসাথে তালি বাজাচ্ছে। এই দলের একজন তানিয়া মাহমুদা তিন্নি বলেন, প্যারিস রোডে হাঁটতে আসব আর গান গাইব না এটা অসম্ভব ব্যাপার। এই  রাস্তায়  হাঁটতে আসলে কণ্ঠ  থেকে আপনাআপনি গান বেড়িয়ে আসে।

বিকেলের শেষ। সূর্যের আলো নিভু নিভু করছে। একটু পরে সন্ধ্যা নামবে। গোধুলি বেলার আলো-আধাঁরের লুকোচুরি খুব জমে উঠেছে। পিচঢালা পথের কালো রং রাতের আঁধারকে আহবান জানাচ্ছে।

একটু পরেই ল্যাম্পপোস্টে আলো জ্বলে ওঠে। রাস্তাটিকে তখন গহীন অন্ধকারের ভেতর আলোর রেখার মতো মনে হয়। যার উপর চোখ রেখে অনন্তকাল ধরে হাঁটার প্রেরণা পাওয়া যায়। মৃদু তালে রাত বাড়ে। ঝিঁঝিঁ পোকারা সরব হয়। তখনও পায়ের শব্দ কানে আসে। হৈ-হুল্লোর, আড্ডাবাজি আর গানের আওয়াজ বন্ধ হয় না। কেউ কেউ চানাচুর, বাদাম কিংবা ডালমুট হাতে গল্প করতে করতে হাঁটতে থাকে আর জীবনের গল্পে মেতে ওঠে। এই গল্প বর্তমানের। এই গল্প আগামীর। স্বপ্নরা ভিড় জমায় তরুণ-তরুণীদের কালো কালো চোখে। আরেকটা আইল টপকালেই তো আমাদের আলোকিত ভোর। এভাবে হৈ-হুল্লোর, আড্ডাবাজি আর গানের ভেতর স্বপ্নের রোদ ওঠে প্যারিস রোডে। প্রতিদিন ওঠে।