Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
পরীক্ষার সাত মাস পরেও ফল প্রকাশ না হওয়ার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষাক্রম বিষয়ে আলোচনারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নিউজলেটার বিদ্যাবার্তা’র দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছেতিস্তা নদীতে খনন ও বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীরারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বষের্র ভর্তি-পরীক্ষা আগামী ২০-২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে

সুন্দরবন আর সাগরকন্যার কোলে আমরা ক’জন

মুছা বিন মোহাম্মদ

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ০৯:৩২ পিএম, ২ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার

সাগরকন্যা কুয়াকাটার সুনীল জলরাশির মাঝে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৯তম ব্যাচের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা- অনুধ্যান

সাগরকন্যা কুয়াকাটার সুনীল জলরাশির মাঝে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৯তম ব্যাচের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা- অনুধ্যান

সারি সারি গাছ চোখের নিমেষেই আড়াল হয়ে যাচ্ছে। দূরে তাকালে মনে হচ্ছে যেন আশপাশের গ্রামগুলো ঘুরছে। আকাশটা পরিষ্কার হতেই অন্যরকম এক শুভ্রতা ছড়িয়ে সুর্য্যমিামা তার দাপট দেখাতে শুরু করেছে। অন্যদিন হলে ট্রেনের যাত্রীদের দেখে এতোটা ভালো লাগত না। তবে আজ লাগছে। শুধু আমি নই, সবারই চোখে মুখে কেন জানি ভিন্ন এক উজ্জ্বলতা। চলছি ভয়ঙ্কর সুন্দর সুন্দরবন ও বিশালতার অন্য নাম সাগরকন্যা কুয়াকাটার পানে।

২১ এপ্রিল ২০১৫, মঙ্গলবার। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের ২২ জনের একটি দল বেরিয়েছি শিক্ষাসফরে। এদিন সকাল সাড়ে ছয়টায় রাজশাহী রেলস্টেশন থেকে খুলনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি। খুলনায় নেমে দুপুরের খাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম সবুজে ঘেরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে।

পরদিন সকালে গেলাম অপূর্ব সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি এই সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার করমজল ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রে। এর প্রবেশ মুখেই আমাদের স্বাগত জানালো এক দল রেসাস বানর। বনে ঢুকেই প্রথমেই পৌঁছাই হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্রে। সুন্দরবনের ঐতিহ্য চিত্রা হরিণ মুক্ত অবস্থায় দেখার সাধ মেটাতে হয় প্রজনন কেন্দ্রের চারদেয়ালে ঘেরা এদের দেখেই। হরিণ পালের সঙ্গ ছেড়ে আমাদের নজর পড়লো কৃত্রিম উপায়ে তৈরি ইট-সিমেন্টের জলাধারে ছোটো ছোটো কুমির ছানা।

সামনে এগুতেই গোলপাতা, সুন্দরী, সিংড়া, বাইন, কাকড়া, গেওয়া, বলা, পশুর আর নাম না জানা বৃক্ষরাজির ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দেখা পেলাম ইট-সিমেন্টের তৈরি আরেকটি সুউচ্চ টাওয়ারের। সব গাছ পেরিয়ে তালগাছের মতো উকি দিয়ে দেখলাম সুন্দর বনের সৌন্দর্য। যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ।

সুন্দরী দর্শন শেষে চন্দ্রমহল, খানজাহান আলী (রঃ)-এর মাজার, বাগেরহাট জাদুঘর ও পনের শতকের ষাট গম্বুজ মসজিদ দেখে আবার খুলনার উদ্দেশে রওনা দেই।

২৩ তারিখ বিকেল পাঁচটায় পৌঁছি কলাপাড়ার কুয়াকাটায়। আমাদের শিক্ষা কাফেলার জন্য আগে থেকেই ‘পর্যটন মোটেল ও ইয়ুথ ইন’ নামের সরকারি একটি হোটেলে কক্ষ বরাদ্দ ছিল। পরের দিন সকালে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল যোগে সমুদ্রতীর ঘেঁষে যাত্রা শুরু করি। ঝাউবন, গঙ্গামতির চর, লাল কাঁকড়ার চর, বৌদ্ধমন্দির, সুন্দরবনের পূর্বাংশ ও রাখাইন পল্লী ঘুরে আসি। দুপুরে ফিরে আসি আবারো সাগরকন্যার কোলে। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ে ভাসতে থাকি সবাই। সমুদ্রের লোনা পানি কটু স্বাদ আর সারা শরীরে বালু নিয়ে ফিরি হোটেলে।

এরই মধ্যে সাগরকন্যার প্রেমে পড়ে গেছি আমরা সবাই। রোববার বিদায় নেওয়ার বিশ মিনিট আগ পর্যন্ত সবার স্থির দৃষ্টি আটকে ছিল তার অপরূপ সৌন্দর্যের প্রতি। সন্ধ্যায় লঞ্চযোগে ঢাকা এরপর ট্রেনে রাজশাহীতে পৌঁছি পরদিন রাত ১০টায়। হলে ফিরে পেছনের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে মনে হলো শিক্ষাজীবন ষোল আনাই পূর্ণ হয়েছে।

সম্পাদনা : ফাতিউস ফাহমিদ