Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষাবৃত্তির জন্য ৫০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাহবুবুল আলম রাজাবর্ণিল ও বিচিত্র আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপিত হয়েছেশেষ হলো সপ্তাহব্যাপী ডেটা জার্নালিজম কর্মশালা‘ ডেটা জার্নালিজম ইন নিউজরুম: হাউ টু ইউজ ডেটা ফর এ গুড স্টোরি‘ কর্মশালার পঞ্চম দিনে শিক্ষার্থীরা অনলাইন সংবাদ-সাইট থেকে ডেটা সংগ্রহ, ডেটা তৈরি এবং সে ডেটা আবার নতুন রূপে উপস্থাপন করার কৌশল শিখেছেন

‘সান্ধ্য আইন’র বেড়াজালে রাবির ছাত্রীরা

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ১১:১১ পিএম, ২ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার

‘সান্ধ্য আইন’র বেড়াজালে রাবির ছাত্রীরা

‘সান্ধ্য আইন’র বেড়াজালে রাবির ছাত্রীরা

‘সান্ধ্য আইন’র বেড়াজালে পড়ে ভোগান্তি আর বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হলগুলোর আবাসিক ছাত্রীরা। মাগরিবের আযানের ত্রিশ মিনিটের মধ্যে তাদের হলে ঢুকে পড়ার নিয়ম রয়েছে। এরপর কেউ বাইরে থাকলে হলে ঢোকার সময় নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে, এমনটাই অভিযোগ ছাত্রীদের।


ক্যাম্পাসে এই কড়াকড়ির সিদ্ধান্ত ‘সান্ধ্য আইন’ বলে চালু রয়েছে।


সান্ধ্য আইনের নামে ছাত্রী হলগুলোতে সন্ধ্যা ৭টার পর হলে ফেরা ছাত্রীদের কোনো কোনো ক্ষেত্রে হলের পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ছাত্রীরা জানান, এসব ভোগান্তির কারণে তাদের আর্থিক, সাংস্কৃতিক, ব্যক্তিগতসহ নানা বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে। যা একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মোটেও কাম্য নয়, বলে দাবি তাদের।

কথিত এই সান্ধ্য আইন অনুযায়ী, রাবিতে শীতকালে মেয়েদের হল গেট সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে এবং গ্রীষ্মকালে ৭টা ৩০ মিনিটে বন্ধ হয়ে যায়। আবার সকাল ৬টার আগে কেউ অনুমতি ব্যতিত হলের বাইরে যেতে পারেনা।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রোকেয়া ও রহমতুন্নেছা হলের কয়েকজন আবাসিক ছাত্রী জানান, টিউশনিসহ বিভিন্ন কাজে তাদের প্রায়ই হলে ফিরতে রাত হয়ে যায়। এজন্য তাদের হল গেটে জবাবদিহি করে খাতায় নাম স্বাক্ষর দিয়ে রুমে যেতে হয়। পরবর্তীতে এই ছাত্রীদের অভিভাবকের কাছে তা অভিযোগ আকারে পাঠানো হয়।


ছাত্রীরা বলেন, ছেলেদের হলগুলোতে তো এসব হয়না, তাহলে আমাদের ক্ষেত্রে শুধু এমন নিয়ম কেন পালন করতে হবে?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রহমতুন্নেসা হলের এক আবাসিক ছাত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে এক অনুষ্ঠান শেষে হলে ফিরতে দেরি হওয়ায় হল সুপার আমার হলের পরিচয়পত্র কেড়ে নেন। পরে প্রক্টর অফিসে গিয়ে নানা ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে পরিচয়পত্র ফেরত নিতে হয়েছে।’

মন্নুজান হলের আবাসিক ছাত্রী সমাজকর্ম বিভাগের দিপালী সাহা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য পাবলকি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে যেখানে রাত আটটার পরেও একজন ছাত্রী হল থেকে বের হওয়ার স্বাধীনতা পাচ্ছেন সখোনে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে মেয়েদেরকে হলে প্রবশে করতে বাধ্য করা হচ্ছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি যতক্ষণ খোলা থাকে তার পুরো সময়টি কাটিয়ে তারা হলে ফিরতে পারেন না। ফলে তাদের ছেলেদের তুলনায় লাইব্রেরি ব্যবহারের সুযোগও কম থাকে, বলে অছিযোগ ছাত্রীদের।


এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মেধা ও মননে আরো অগ্রসর হওয়ার সুযোগ করে দিতে সান্ধ্য আইনটা শিথিল করে লাইব্ররেরি সাথে সামঞ্জস্যর্পূণ রাখলে ভালো হতো বলে দাবি তাদের।


এদিকে মন্নুজান হলের আরেক আবাসিক ছাত্রী তৌহিদা ফাতেমা জ্যোতি বলেন, সামনে চুড়ান্ত পরীক্ষা। তাই ভাল প্রস্তুতির জন্য প্রতিদিনই লাইব্রেরিতে গিয়ে নোট তৈরি করে পড়াশুনা করতে হচ্ছে। কিন্তু রাত আটটায় লাইব্রেরি বন্ধ হয়ে গেলে হলে প্রবেশের জন্য নাম স্বাক্ষরের পাশাপাশি জবাবদিহি করতে হয়। বিষয়টি মেয়েদের প্রতি এক ধরনের বঞ্চনা ও ভোগান্তি বলেই মত এই শিক্ষার্থীর।

‘এই সান্ধ্য আইনের র্কাযকারিতা কী?  নিরাপত্তাই কি প্রধান বিষয়? প্রশাসন কি আদৌ একজন মেয়ে শিক্ষার্থীর সারাদিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে?-এমনই প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন রহমতুন্নেসা হলের  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আবাসিক শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, সান্ধ্য আইনের নামে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর একধরনের বৈষম্যমূলক বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।

বিষয়টি মানতে নারাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর মুজিবুল হক আজাদ। তিনি বলেন, আবাসিক ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করেই এমন আইন করা হয়েছে।


জানা গেছে, ১৯৭৩-এর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী মেয়েদের হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো বিধিনিষেধ নেই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যায়ের প্রক্টরিয়াল বডি আরোপিত এই ‘সান্ধ্য আইন’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চালু আছে। এই আইনের কারণে শীতকালে সাড়ে ছয়টা এবং গ্রীষ্মকালে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার মধ্যেই মেয়েদের হলের প্রধান ফটকটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সান্ধ্য আইন অনুযায়ী হলে ফেরার বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্ন করলে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ফাহিমা খাতুন বলেন, আমরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অর্পিত দায়িত্ব পালন করছি। নিরাপত্তাহীনতার কারণে যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় এজন্য আমরা বিষয়গুলো কঠোরভাবে দেখি।

লাইব্রেরি ব্যবহারে অসুবিধার প্রসঙ্গ তুললে ড. ফাহিমা বলেন, সারাদিন লাইব্রেরি খোলা থাকে, এমনকি প্রত্যেক হলেও লাইব্রেরি আছে। তাছাড়া খুব কম মেয়েই কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ব্যবহার করে।

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি মুক্ত চর্চার জায়গা, এখানে ছেলে-মেয়ে অবাধ বিচরণ করবে, ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও সবক্ষেত্রে সমান সুযোগ পাবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও তাদেরকে সুরক্ষিত রাখার জন্য হল প্রাধ্যক্ষের মাধ্যমে ছাত্রীদের সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার আগে হলে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পরিবেশ কখনও অনুকূল হলে এ নির্দেশনা তুলে নেওয়া হবে।

সন্ধ্যা হওয়ার ৩০ মিনিট পরে হলে ঢুকলে মেয়েদের হেনস্থা করা হয় এমন অভিযোগ সম্পর্কে ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থী এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি। কেউ অভিযোগ করলে তখন আমরা তা আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নেবো, বলেন মিজানুর রহমান।