Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
পরীক্ষার সাত মাস পরেও ফল প্রকাশ না হওয়ার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষাক্রম বিষয়ে আলোচনারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নিউজলেটার বিদ্যাবার্তা’র দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছেতিস্তা নদীতে খনন ও বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীরারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বষের্র ভর্তি-পরীক্ষা আগামী ২০-২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে

শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা : মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির ভাণ্ডার

কামরুন্নাহার

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ০৯:০৭ পিএম, ২ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার

শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা : মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির ভাণ্ডার

শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা : মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির ভাণ্ডার

মনের অজান্তেই গুনগুন করে গানটি গেয়ে উঠলো প্রিয়ন্তি। বাবা ও বোনের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেড়াতে এসেছে দ্বিতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থী। বাবা তাদের দেখাতে নিয়ে এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদমিনার সংলগ্ন শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা। এই প্রথমবারের মতো এখানে এসেছে সে। বাবা তাদের যতœ করে সবগুলো গ্যালারী ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন। অনেক প্রশ্নে উথাল-পাথাল হচ্ছে প্রিয়ন্তির শিশুমন। কিছুক্ষণ একমনে দেখে মনের প্রশ্নগুলো সে আর চেপে রাখতে পারল না। বড় বোন অবন্তির কাছেই সে প্রশ্ন করে চলল একের পর এক।

‘আপু এগুলো কার মাথা?’, ‘এই মেয়েটার কি হয়েছে?’, ‘এই ছবিগুলো কাদের?’, ‘এটা কি?’, ‘ওটা কি?’-টানা প্রশ্ন করে চলেছে সে। ছোট মেয়ের কৌতূহল মেটাতে এগিয়ে এলেন বাবা মিনারুল ইসলাম। মেয়েকে কোলে নিয়ে বলতে লাগলেন, ‘‘এখন তুমি যা খুশি করতে পারো, যেখানে ইচ্ছে যেতে পারো, যা খুশি বলতে পারো। একটা সময় আমাদের দেশটা এমন ছিল না। আমাদের শাসন করতো পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা। তারা আমাদের ওপর অনেক অত্যাচার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে আমাদের মুক্তিসেনারা। এই যে দেখছো এগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের মাথার খুলি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাঁদের হত্যা করে। বেঁধে রাখা যে মেয়েটার ছবি দেখছো তাকে লাঞ্ছিত করে তারা। অনেক মানুষকে হত্যা করে তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। তোমার মতো ছোটদের পায়ের নিচে ফেলে হত্যা করে।’

এসব শুনে ভীষণ কান্না পায় প্রিয়ন্তির। তার শিশুমনে শহীধ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জেগে ওঠে। একই সঙ্গে যেসব মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধশেষে জীবিত ফিরে আসেন তাঁদের নিয়েও গর্ববোধ করে সে। মুুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল সেই সংগ্রামের নানা স্মৃতি বুকে ধরে আছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা।

শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই সংগ্রহশালা স্মরণ করিয়ে দেয় আমাদের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুথান ও ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের কথা। এখানে রয়েছে মোট তিনটি গ্যালারি। একটিতে ‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’ বলে যারা রাজপথে নেমে এসেছিল তাদের অনেক আলোকচিত্র ও নথিপত্র তুলে ধরা হয়েছে। এসব দেখে আমাদের নতুন প্রজন্ম বুঝতে পারে বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে মর্যাদা পেয়েছে এই বাংলা ভাষা।

অন্য দুটি গ্যালারিতে ধারণ করা হয়েছে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসকে। এখানে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী কার্যক্রমের বহু চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হওয়া মা-বোনদের চিত্র, গণহত্যার বাস্তব লোমহর্ষক চিত্র এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এখানে সংরক্ষিত রয়েছে বিভিন্ন গণকবর থেকে উত্তোলন করা শহীদদের শরীরের হাড়, মাথার খুলি ও কঙ্কাল। মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত রকেট-লঞ্চার, শেল, পাকি বাহিনীর মাথার খুলি ও হেলমেট, ব্যবহৃত কাঠের গুলির বাক্স, ছুরি, ছাড়াও আরো অনেক কিছু।

সংগ্রহশালার নিরব, থমথমে পরিবেশে এসব ছবি দেখে প্রিয়ন্তি-অবন্তির শরীরে কেমন যেনো কাঁটা দিয়ে ওঠে। হৃদয়ের মানসপটে ভেসে ওঠে যুদ্ধের চিত্র। নির্যাতিত মা-বোন, পথচারী, ছাত্র-জনতার লাশের ছবি দেখে কেঁপে ওঠে বুকের ভেতরটা। বোঝা যায় এদেশের জন্য বাঙালিরা দাম দিয়েছে কতটা।

১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এ সংগ্রহশালাটি। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা থাকে এ সংগ্রহশালাটি। প্রতিদিনই অনেক দর্শনার্থী আসেন, তবে ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বরের মতো বিশেষ দিনগুলোতে এখানে ভিড় জমে প্রচুর। দর্শনার্থীরা এখান থেকে জানতে পারেন মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাসের কথা। এভাবেই শহীদদের অমর স্মৃতি বুকে ধরে শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা চিরদিন জাতিকে পথ দেখিয়ে যাবে।

সম্পাদনা : ফাতিউস ফাহমিদ