Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
পরীক্ষার সাত মাস পরেও ফল প্রকাশ না হওয়ার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষাক্রম বিষয়ে আলোচনারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নিউজলেটার বিদ্যাবার্তা’র দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছেতিস্তা নদীতে খনন ও বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীরারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বষের্র ভর্তি-পরীক্ষা আগামী ২০-২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে

রাবিতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

শামীম রাহমান

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ০৮:৪৪ পিএম, ২ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার

রাবিতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

রাবিতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবার পানীয় জলের প্রধান উৎস ৬৪টি নলকূপের অর্ধেকের বেশি নষ্ট থাকায় হলের ডাইনিং ও ক্যাম্পাসের খাবারের দোকানে ব্যবহৃত হচ্ছে সাপ্লাইয়ের নোংরা পানি। আবাসিক শিক্ষার্থীদের গোসলের জন্য ব্যবহৃত পুকুরগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার আর লিটার (হাঁস-মুরগীর বিষ্ঠা) ব্যবহার করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন এতে টাইফয়েড, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে গরমের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের বাড়তি যন্ত্রণা হিসেবে যোগ হয়েছে মশার উপদ্রব। ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলের ড্রেন, নর্দমার ময়লা নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মশক-নিধন কার্যক্রম গ্রহণ না করাকেই দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে।

বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মোট ৬৪টি নলকূপ রয়েছে। ১৭টি আবাসিক হলে ৫৮টি নলকূপের মধ্যে ২৯টিই নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এর মধ্যে মেয়েদের পাঁচটি আবাসিক হলে ২০টির মধ্যে ৭টি ও ছেলেদের ১১টি হলে ৩৮টির মধ্যে ২২টি নলকূপ নষ্ট। প্রায় সবগুলো নলকূপে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন  ভবনের ভেতরে-বাইরে আরও পাঁচটির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়াম ও চিকিৎসাকেন্দ্রের নলকূপ নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে এই নলকূপের সংখ্যা অপ্রতুল। তার ওপর শুকনো মৌসুমে সচল নলকূপ থেকেও বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী তুষার ইমরান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে খাবার পানির সংকটের পাশাপাশি মশার কামড় ও পুকুর-ড্রেনগুলোর ময়লা আবর্জনার কারণে আমরা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। অনেক শিক্ষার্থী এ কারণে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।’

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, ‘শুকনো মৌসুমে বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যায়। এর কারণ হতে পারে, আমরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার করায় এখন আর নলকূপে খুব বেশি পানি আসছে না।’

এদিকে খাবারের হোটেল ও বিভিন্ন হলের ডাইনিং ঘুরে দেখা যায়, রান্নার কাজে ও পানীয় জল হিসেবে সাপ্লাইয়ের নোংরা পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া পুকুরের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও লিটার ব্যবহারে দূষিত হচ্ছে পানি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের অতিরিক্ত প্রধান চিকিৎসক ড. হামিদুল হক জানান, প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০জন শিক্ষার্থী চর্মরোগ অথবা টাইফয়েড আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে আসছেন। অনেকের রক্তে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব এবং গোসলের পানিতে ছত্রাকের কারণে শিক্ষার্থীরা এসব পানিবাহিত রোগে ভুগছেন।

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান অনুধ্যানকে বলেন, ‘আমরা দু-একদিনের মধ্যেই ক্যাম্পাসের টিউবওয়েলগুলো পরিদর্শন করব। যেসব টিউবওয়েল নষ্ট হয়ে পড়ে আছে সেগুলো সচল করলে পানির সংকট অনেকাংশে কমে যাবে।’

ক্যাম্পাসের ড্রেন ও পুকুরের নোংরা পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে নিয়মিত কাজ করছে। তারপরও তাদেরকে আরও ভালোমত কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হবে।’