Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষাবৃত্তির জন্য ৫০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাহবুবুল আলম রাজাবর্ণিল ও বিচিত্র আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপিত হয়েছেশেষ হলো সপ্তাহব্যাপী ডেটা জার্নালিজম কর্মশালা‘ ডেটা জার্নালিজম ইন নিউজরুম: হাউ টু ইউজ ডেটা ফর এ গুড স্টোরি‘ কর্মশালার পঞ্চম দিনে শিক্ষার্থীরা অনলাইন সংবাদ-সাইট থেকে ডেটা সংগ্রহ, ডেটা তৈরি এবং সে ডেটা আবার নতুন রূপে উপস্থাপন করার কৌশল শিখেছেন

রাবিতে বিদ্যুতের অপচয় আর নয়

মাহফুজ গোলাপ

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ০৯:১১ পিএম, ২ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার

রাবিতে বিদ্যুতের অপচয় আর নয়

রাবিতে বিদ্যুতের অপচয় আর নয়

অনেক দিন আগের একটি ঘটনা মনে পড়ে গেল- তখন শীতকাল। সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু হলে কোনো এক কাজে বন্ধুর রুমে গিয়েছি। রুমে ঢুকতেই দেখি, দরজার পাশে দুইটা হিটার জ্বলছে। বন্ধু জানালো, রুম গরম রাখার জন্য প্রতিরাতেই তারা হিটার জ্বালিয়ে রাখে। অনেকে আবার সারা রাত ১০০/২০০ ওয়াটের বাতি জ্বালিয়ে রাখে। শীতকালে প্রতিটি হলেই এটি নিয়মিত ঘটনা। শুধু শীতকাল নয়, সারা বছরই কোনো না কোনোভাবে এখানে বিদ্যুতের অপচয় ঘটে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন এবং প্রশাসনিক ভবনগুলোসহ গোটা ক্যাম্পাসে প্রতিদিন প্রচুর বিদ্যুতের ব্যবহার হয়। তবে এই ব্যবহার অনেক সময় রূপ নেয় অপচয়ে।

বিদ্যুৎ অপচয়ের প্রধান কারণ হলো অসচেতনতা। এখন গ্রীস্মকাল। বিদ্যুতের ব্যবহার অন্য সময়ের তুলনায় এমনিতেই বেশি। প্রচ- গরমের কারণে প্রায় সবসময় ফ্যান চালানো প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা হলোÑ অনেক সময় ব্যবহার শেষে ফ্যান বন্ধ করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ক্লাস শেষে ফ্যান বন্ধ না করেই সবাই বের হয়ে যাচ্ছেন। দায়িত্বরত কর্মচারীর নজরে না এলে তা সারা রাতই চলতে থাকে। হলের কোনো কোনো  রুমে সিলিং ফ্যান থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা টেবিল ফ্যান ব্যবহার করেন।

হলগুলোর গেমসরুম, টিভিরুম, ডাইনিং, ক্যন্টিন ও গেস্টরুমে প্রায় সারাক্ষণই বাতি ও ফ্যান চলতে থাকে, কেউ তা বন্ধ করেন না। শীতকালে হলগুলোতে ব্যাডমিন্টন কোর্টের বাতিগুলো খেলা শেষে সারারাতই জ্বালানো থাকে কখনো কখনো। ক্যাম্পাসের ভবনগুলো ও ল্যাম্পপোস্টের বাতিগুলো সন্ধ্যার ঘণ্টাখানেক আগেই জ্বালিয়ে দেয়া হয় এবং সকালে অনেক দেরিতে বন্ধ করা হয়ে থাকে।

বিদ্যুৎ জাতীয় সম্পদ। এর অপচয় করা মানে দেশ ও জাতির ক্ষতি করা। এভাবে নির্বিচারে বিদ্যুৎ অপচয় করা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জাজনক। তাই ক্যাম্পাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে বিদ্যুতের অপচয় রোধে এগিয়ে আসতে হবে। নির্বিচারে হিটার চালানো, বেশি ওয়াটের বাতি অযথাই জ্বালিয়ে রাখা, ব্যবহার শেষে লাইট ও ফ্যান বন্ধ না করাÑ এসব করে মূল্যবান জাতীয় সম্পদ বিদ্যুতের অপচয় করার কোনো মানে হয় না। এছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার স্বার্থে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাল্ব ব্যবহার করতে হবে।  বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারে  উদ্যোগ নিতে পারে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক বলেছেন, আইফোন, অ্যানড্রয়েডফোন ও অ্যাপের মাধ্যমে বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ অপচয় রোধ করা যায়। মন্ত্রী আরও বলেছেন, আইসিটি বিভাগ ইনোভেশন, স্মার্ট গ্রিনবিল্ডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ করছে। এতে স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে দূর থেকে স্মার্ট সুইচ, স্মার্ট ম্যাজিক লাইট, স্মার্ট এনার্জি মিটারের মাধ্যমেও বিদ্যুতের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব। বিদ্যুতের অপচয় রোধে এই ধরনের প্রযুক্তি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

বিদ্যুৎ অপচয় রোধে অটোমেটিক সুইচিং সিস্টেম আবিষ্কার করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহাদত হোসেন শাহিন যা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য খুবই কার্যকরী হতে পারে। আবিষ্কৃত এই সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা, টেলিভিশন বন্ধ ও চালু হওয়াসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।

নতুন এই সিস্টেমের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কোনো কক্ষের ভেতরে কেউ প্রবেশ করলে বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা, টেলিভিশনসহ সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে। আবার কক্ষ ত্যাগ করলে ওইসব যন্ত্রপাতি আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে বিদ্যুতের অপচয় রোধ হবে। তবে এর জন্য কোনো কম্পিউটার সংযোগ বা ব্লুটুথ ডিভাইস তারের প্রয়োজন হবে না। সিস্টেমটি চালু করতে খরচ হবে মাত্র ৫৬৫ টাকা।