Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
পরীক্ষার সাত মাস পরেও ফল প্রকাশ না হওয়ার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষাক্রম বিষয়ে আলোচনারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নিউজলেটার বিদ্যাবার্তা’র দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছেতিস্তা নদীতে খনন ও বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীরারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বষের্র ভর্তি-পরীক্ষা আগামী ২০-২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে

রহস্যের সেতু ‘ছু-মন্তর’

জয়শ্রী ভাদুড়ী

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ০৯:৫২ পিএম, ২ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার

রহস্যের সেতু ‘ছু-মন্তর’

রহস্যের সেতু ‘ছু-মন্তর’

প্রতিদিনের মতো কেউ ছবির স্কেচে ফুটিয়ে তুলছে রূপসী বাংলাকে, কেউ আবার তুলির রঙে রঙিন করছে জলছাপ স্বপ্নকে। মাঝখানে শাপলা-শালুকে ঢেউ খেলানো ছোট্ট লেক আর পাশেই আম, পলাশ, তাল গাছের ছায়ায় জম্পেশ আড্ডার জায়গা রফিক ভাইয়ের চায়ের দোকান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ত্রিকোণ ভবনের বাইরের চিরচেনা চিত্র এটি।

কিন্তু বিপত্তি বাধে এক জায়গায় যদি কারো কাজ করতে করতে চায়ের তৃষ্ণা লাগে তাহলে লেককে পাশ কাটিয়ে রাস্তা ঘুরে তাকে যেতে হবে চায়ের খোঁজে। তাই মনেমনে কখনো না কখনো লেকের ওপর একটা সেতুর অভাব বোধ করতেন সবাই। হঠাৎ একদিন সকালে এসে দেখা গেল লেকের ওপর তৈরি হয়েছে সেতু। কিন্তু সবার মনে প্রশ্ন কিভাবে হলো? গতকালতো এখানে কিছুই ছিলনা। তাহলে কেউ কি সিঙায় ফুঁদিয়ে মন্ত্র-তন্ত্র বলে এক রাতের ব্যবধানে বানিয়ে ফেললো সেতু! এজন্য এর নামকরণ হলো ছু-মন্তর সেতু।

আসলে মন্ত্র-তন্ত্রের কিছুই ফলেনি সেতু তৈরিতে। ছু-মন্তর সেতু তৈরির ইতিহাস টানতে গিয়ে চারুকলার শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন, ‘অনেকদিন আগে থেকেই আমাদের মাথাতে ঘুরছিলো লেকের ওপর একটা সেতু তৈরির পরিকল্পনা। এজন্য আমরা চারুকলার বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে থেকে সাধ্য অনুযায়ী চাঁদা তুলি। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী বাঁশ, দড়ি, তারকাটা এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনে সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করি সেতু তৈরির কাজ। আর এক রাতেই সিমেন্টের খুটির ওপর বাঁশের চাটাই দিয়ে দাঁড়িয়ে যায় স্বপ্নের সেতু ছু-মন্তর।’

এবারই যে প্রথম সেতুর এমন নাম দেওয়া হয়েছে তা নয়। আগে এই লেকের ওপর নির্মাণ করা সেতুটির নাম ছিলো আলিফ লায়লা। যেকোনো সেতু নির্মাণের পরই সেখানে আরোপ হয় কিছু বিধিনিষেধ, তাই সে জায়গা থেকে পিছিয়ে নেই সেতু ছু-মন্তরও। এখানেও দু দিকে বাঁশের খুটির সঙ্গে পেরেক ঠুকে লাগানো সাইন বোর্ডে লাল কালিতে লেখা আছে ‘৬৫ কেজির উর্ধ্বে সেতুতে ওঠা নিষেধ।’ তবে এটা শুধুই মজার ছলে। যেকোনো বয়সী, যে কোন ওজনের মানুষই যাতায়াত করতে পারেন ছু-মন্তর সেতু দিয়ে। এই সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে নিচের শ্যাওলা সবুজ জল আর প্রাণ খোলা বাতাস গায়ে মেখে অনেকই ব্যস্ত থাকেন বন্ধুদের সঙ্গে সেলফি তুলতে। অনেকই আবার সেতুতে পা ঝুলিয়ে দোতরা বাজিয়ে সুর তোলেন ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম।’ শিক্ষার্থীরা আসে পড়শোনা করতে, সময় ফুরিয়ে গেলে চলে যান তারা। কিন্তু হাজারো সুখ-দুখের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে মেলবন্ধনের সেতু ছু-মন্তর।#