Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষাবৃত্তির জন্য ৫০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাহবুবুল আলম রাজাবর্ণিল ও বিচিত্র আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপিত হয়েছেশেষ হলো সপ্তাহব্যাপী ডেটা জার্নালিজম কর্মশালা‘ ডেটা জার্নালিজম ইন নিউজরুম: হাউ টু ইউজ ডেটা ফর এ গুড স্টোরি‘ কর্মশালার পঞ্চম দিনে শিক্ষার্থীরা অনলাইন সংবাদ-সাইট থেকে ডেটা সংগ্রহ, ডেটা তৈরি এবং সে ডেটা আবার নতুন রূপে উপস্থাপন করার কৌশল শিখেছেন

মেরাজদের কথা

মো. জহুরুল

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ০৯:০৩ পিএম, ২ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার

মেরাজদের কথা

মেরাজদের কথা

‘ভাই কী খাবেন’?

পেছন ফিরে তাকাতেই দেখলাম একটি শিশু। কৃশকায়, গায়ে ছেঁড়া পোশাক। চেহারায় দারিদ্র্যের ছাপ স্পষ্ট। বয়স তের-চৌদ্দ বছর হবে। জিজ্ঞেস করে জানা গেল, মায়াবী চেহারার এই শিশুটির নাম মেরাজ। কাজ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বরে একটি খাবার দোকানে। বাবা নেই। কষ্টের সংসারে দু’বেলা খাবার জোটে না। নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। ক্ষুধার সাথে তার নিত্যদিনের পরিচয়। তাই তার এ সংগ্রামী জীবন।

‘লেখাপড়া করতে ইচ্ছা করে না?’ প্রশ্ন শুনেই মায়াবী হাসিতে উত্তর দেয় মেরাজ, ‘পেটে ভাত জোটে না, আবার লেখাপড়া। লেখাপড়া বড়লোকের কাম।’

‘বড়ো হয়ে কী হতে চাও?’ প্রশ্ন শুনে হতাশ হয়ে মেরাজ বলল, ‘গরীব মানুষ কী আর কইরবো। তয় টাকা থাকলে একটি ফটোকপি মেশিন অথবা ওয়েল্ডিং মেশিনের কারখানা দিতাম। কিন্তু অত টাকা পাইব কোতি।’

কথা হল সালাউদ্দিন নামের এরকম আরেকজনের সঙ্গে। মেরাজের চেয়ে তার অবস্থা আরো খারাপ। তাকেও অল্প বয়সে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে। অনেক ইচ্ছে ছিল লেখাপড়া করার। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় দারিদ্র্য। শিশু বলেই পারিশ্রমিক কম, সারাদিন কাজ করে আয় হয় মাত্র ১০০ টাকা। যার সিংহভাগই খাওয়ার পেছনে ব্যয় হয়।

মেরাজ, সালাউদ্দিনরা একা নয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দোকানে এ রকম ৫০-৬০ জন শিশু আছে। স্বপ্নহীন চোখে স্বপ্ন গড়ার এই আঙ্গিনায় তারা আমাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সভ্য সামাজ যাকে বলে শিশুশ্রম।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিশুশ্রম যেন আলোর নিচে অন্ধকার। আলো ছড়ানোর এই আঙ্গিনায় এই শিশুরা যেন সব অন্ধকারের যাত্রী। এই শিশুরা প্রায়ই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। ফলে তাদের এক অসুস্থ ও বৈরী পরিবেশের মধ্য দিয়ে বড় হতে হচ্ছে। মালিকশ্রেণি তাদের অর্থনৈতিক অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে প্রায়ই তাদের শ্রম শোষণ করে। শিশুশ্রম শিশু অধিকারের সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন। শিশুশ্রম চুরি করছে শিশুদের আনন্দময় শৈশব। যে বয়সে হাতে থাকবার কথা খাতা-কলম, সে হাতে আজ শ্রমিকের হাঁতুড়ি-শাবল। জীবিকার তাগিদে তাদের আজ হতে হয়েছে শ্রমজীবী। যে বয়স হেসে-খেলে কাটাবার, বন্ধু-সহপাঠীদের সাথে উচ্ছ্বাসে মেতে থাকবার, সে বয়সে তাদের কাঁধে আজ সংসারের বিশাল দায়িত্বের বোঝা। বাংলাদেশের আইন অনুসারে ১৮ বছরের নিচে সবাই শিশু। জাতীয় শিশুনীতিতে উল্লেখ আছে, ৫ থেকে ১৮ বছরের শিশুদের কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা যাবে না। কিন্তু দেখা গেছে, শিশুরা জাহাজ শিল্প, ওয়েল্ডিং কারখানা, কাগজ কারখানা, লেদ মেশিন, মোটর ওয়ার্কসপের মতো ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ৩০০ প্রকার কাজে নিয়োজিত। ২০০২-২০০৩ সালে আইএলও’র এক জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৭ লাখ শিশুশ্রমিক রয়েছে।

শিশুশ্রম বন্ধে কঠোর আইন থাকলেও তার প্রয়োগ সীমিত। শিশুশ্রম বন্ধের তৎপরতা আজ শুধু বক্তব্য স্লোগান, পোস্টার আর সেমিনারেই সীমাবদ্ধ। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার। শিশুশ্রম রোধ করে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য সরকারসহ সকলকে এখনেই সচেতন ও উদ্যোগী হতে হবে।

সম্পাদনা : মো. রহমতুল্লাহ