Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
পরীক্ষার সাত মাস পরেও ফল প্রকাশ না হওয়ার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষাক্রম বিষয়ে আলোচনারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নিউজলেটার বিদ্যাবার্তা’র দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছেতিস্তা নদীতে খনন ও বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীরারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বষের্র ভর্তি-পরীক্ষা আগামী ২০-২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে

মতিহার হলে ফাটল উপেক্ষা করেই চলছে নির্মাণকাজ

অনুধ্যান প্রতিবেদক

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ০৯:২১ পিএম, ২ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার

নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। এরই মধ্যে গত ২৫ মে’র ভূমিকম্পে ফাটল দেখা দেয় রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয়ের মতিহার হলের পিলারে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে- অনুধ্যান

নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। এরই মধ্যে গত ২৫ মে’র ভূমিকম্পে ফাটল দেখা দেয় রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয়ের মতিহার হলের পিলারে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে- অনুধ্যান

ভূমিকম্পে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নিমার্ণাধীন মতিহার হলে ফাটল দেখা দেওয়ায় মাত্র দুদিন বন্ধ রেখে আবারো সেখানে চলছে নির্মাণ কাজ। ফাটল নিয়ে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হলেও প্রশাসন বলছে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে এতে আশঙ্কামুক্ত হতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনায় গত ২৭ এপ্রিল শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও সে কমিটি এখনও কোনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

মতিহার হল সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দুই বছর পর ১৯৫৫ সালে মতিহার হল নির্মিত হয়। টিনশেডের ওই হলটিতে তিনশো শিক্ষার্থীর আবাসনব্যবস্থা ছিল। ২০০৮ সালে এটি পুনঃনির্মাণের জন্য এক কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রশাসনের অবহেলায় দীর্ঘ পাঁচ বছরে হলটির একটি ব্লকেরও পুরো কাজ শেষ হয় নি। একটি ব্লকের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ এখনও চলছে। ইতোমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলো শিক্ষার্থীদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে মতিহার হলে গিয়ে দেখা যায়, হলের পশ্চিম ব্লকের নিচতলা, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার কয়েকটি কক্ষে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়াও পূর্ব ব্লকের কয়েকটি জায়গায় ফাটল দেখা গেছে। ভবনের দেয়ালে শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করলেই পলেস্তারা খসে পড়ছে। এরই মধ্যে হলের তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ চলছে।

হলে ফাটলের ঘটনায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং প্রকৌশলীদের দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় গত ২৭ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির পাশাপাশি তিন দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ মতিহার হল ভবন ভেঙে পুনরায় ভবন নির্মাণ করা, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হলের শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং এই ভবন নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মামুন-উর-রশিদ বলেন, ‘নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং প্রকৌশলীদের দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের কারণেই হলের নির্মাণকাজ চলার মধ্যেই হলের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে।’ এই ফাটল নিয়ে তিনি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী সিরাজুম মুনীর বলেন, ‘আমরা হলের ভবন ঘুরে দেখেছি। কিছু জায়গায় ফাটল দেখা গেছে। কিন্তু সেগুলো গুরুতর নয়।’ ফাটল উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফাটলগুলো খুব বেশি গুরুতর নয়। তাই নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।’



এ ব্যাপারে মতিহার হল প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর ড.  মো. জাহাঙ্গীর আলম সাউদ জানান, ‘এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, বিষয়টি তারাই ভালো বলতে পারবেন’।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনুধ্যানকে বলেন, ‘আমি প্রধান প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে মতিহার হল ঘুরে দেখেছি। হলের ফাটলগুলো খুব বেশি না। তবুও এসব ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে’।