Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষাবৃত্তির জন্য ৫০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাহবুবুল আলম রাজাবর্ণিল ও বিচিত্র আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপিত হয়েছেশেষ হলো সপ্তাহব্যাপী ডেটা জার্নালিজম কর্মশালা‘ ডেটা জার্নালিজম ইন নিউজরুম: হাউ টু ইউজ ডেটা ফর এ গুড স্টোরি‘ কর্মশালার পঞ্চম দিনে শিক্ষার্থীরা অনলাইন সংবাদ-সাইট থেকে ডেটা সংগ্রহ, ডেটা তৈরি এবং সে ডেটা আবার নতুন রূপে উপস্থাপন করার কৌশল শিখেছেন

বর্ণিল আয়োজনে মতিহার চত্বরে নবনর্ষ উৎসব

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ১১:০৫ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৯ রবিবার

বর্ষবরণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করেছে চারুকলা অনুষদ

বর্ষবরণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করেছে চারুকলা অনুষদ

আহমেদ ফরিদ: বর্ণিল ও বিচিত্র আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নববর্ষ  ১৪২৬ উদযাপিত হয়েছে। বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভিন্ন হল ও বিভাগ, নানা সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠন আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের মানুষের বিচিত্র-বর্ণিল অয়োজন আর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মতিহারের সবুজ চত্বরে আজ সারা দিন ছিল উৎসবের আমেজ।

সকালে বছরের প্রথম সূর্যেদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসে বেজে ওঠে বৈশাখের সুর। ধীরে ধীরে নামতে থাকে নানা শ্রেণি-পেশা-বয়সের মানুষের ঢল। শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনের নাগরিক নয়,  রাজশাহী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে নানা ক্ষেত্রের কর্মজীবী, শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো মানুষ সামিল হয়েছে উঠেছে বৈশাখী উৎসবে। 

প্রতিবারের ন্যায় এবারও বৈশাখের মূল আকর্ষণ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের আয়োজন। ‘`মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’ এই স্লোগানে বেলা ১১ টায় চারুকলা চত্বরে বর্ষবরণের উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান। উপাচার্যের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর পরই শুরু হয় মঙ্গল-শোভাযাত্রা।  শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ  উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে অংশগ্রহণ করেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোটার্স ইউনিটির শোভাযাত্রা

মঙ্গল-শোভাযাত্রায় এবার ছিল ঘোড়া, হাতি ও ময়ুরের প্রতিকৃতি। আয়োজকরা জানান, ঘোড়ার প্রতিকৃতি ‘গতি’র বার্তা বহন করবে। এটি দীর্ঘদিন ধরে ঝিমিয়ে থাকা বাংলাদেশে অর্থনীতির বর্তমান গতিকে উপস্থাপন করবে। আর ময়ুরের নাচ ও রঙিন পালক উৎসবের আমেজকে নির্দেশ করবে। হাতির প্রতিকৃতি বাংলাদেশের ধাবমান বৃহৎ অর্থনীতির প্রতীক হিসেবে বার্তা বহন করবে। 

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, বছরের নতুন প্রভাতকে বরণ করে নিতে সকাল থেকেই ঢাক, ঢোল আর গান বাজনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। বিভিন্ন বিভাগ আর সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও বের করা হয় শোভাযাত্রা। রংবেরঙের পাঞ্জাবি, শাড়িতে দেখা যায় তরুণ-তরুণীদের। কেউ কৃষকের সাজে, আবার কেউ বা বর-বউ, আবার কাউকে দেখা গেছে লুঙ্গি পাঞ্জাবিতে। বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে পুরো ক্যাম্পাস মাতিয়ে তোলেন শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাসের মূল আয়োজন চারুকলাকে কেন্দ্র করে হলেও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন বিভাগে ছিল বর্ষবরণের নানা আয়োজন। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ একাডেমিক ভবনের সামনে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃিত বিভাগ, ইতিহাস বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ এবং সংস্কৃত বিভাগ বৈশাখকে বরণ করে নিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী একাডেমিক ভবনের সামনে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ;রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ইনফরমেশন সায়েন্স এন্ড লাইব্রেরী ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং মার্কেটিং বিভাগ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ড. এম.ওয়াজেদ আলী একাডেমিক ভবনের সামনে ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং  ফার্মেসি বিভাগ বর্ষবরণের আয়োজন করে। স্যার জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সামনে পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগ, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ, মনোবিজ্ঞান বিভাগ; ড. কুদরত-এ-খুদা একাডেমিক ভবনের সামনে রসায়ন বিভাগ; মমতাজ উদ্দিন একাডেমিক ভবনের সামনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, সমাজকর্ম বিভাগ;  শেখ রাসেল স্কুল মাঠে অর্থনীতি বিভাগ;  টিএসসিসি`র মাঠে ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগ নানা আয়োজনে বর্ষবরণ করছে। প্রতিটি অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নেচে-গেয়ে আনন্দ উচ্ছা¡স প্রকাশ করেছে।

বর্ষবরণে ফোকলোর বিভাগের শোভাযাত্রা

ফোকলোর বিভাগের শোভাযাত্রা

এদিকে সাংবাদিক সংগঠন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি (রুরু)সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও দিনটি উদযাপন করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারুকলা অনুষদ চত্বর, পুরাতন ফোকলোর চত্বর, টুকিটাকি চত্বর, লিপু চত্বর, ড. শহীদুল্লাহ একাডেমিক ভবন, ইবলিশ চত্বর, সাবাশ বাংলাদেশ চত্বরসহ ক্যাম্পাসের প্রতিটি জায়গায় বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে।

নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. লুৎফর বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে সকল অনুষ্ঠান শেষ করার জন্য ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চতকরণে অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা  বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।