Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষাবৃত্তির জন্য ৫০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাহবুবুল আলম রাজাবর্ণিল ও বিচিত্র আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপিত হয়েছেশেষ হলো সপ্তাহব্যাপী ডেটা জার্নালিজম কর্মশালা‘ ডেটা জার্নালিজম ইন নিউজরুম: হাউ টু ইউজ ডেটা ফর এ গুড স্টোরি‘ কর্মশালার পঞ্চম দিনে শিক্ষার্থীরা অনলাইন সংবাদ-সাইট থেকে ডেটা সংগ্রহ, ডেটা তৈরি এবং সে ডেটা আবার নতুন রূপে উপস্থাপন করার কৌশল শিখেছেন

নিরাপত্তা শঙ্কায় হলের শিক্ষার্থীরা! কিন্তু কেনো?

অনুধ্যান প্রতিবেদন

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ১১:১৯ পিএম, ২ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার

নিরাপত্তা শঙ্কায় হলের শিক্ষার্থীরা! কিন্তু কেনো?

নিরাপত্তা শঙ্কায় হলের শিক্ষার্থীরা! কিন্তু কেনো?

২৮ জানুয়ারি, বিকাল সাড়ে চারটা। শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হল। মূল গেটের সামনে কয়েকজন স্কুল পড়ুয়া ছেলে। হঠাৎ তারা ঢুকে পড়লো হলের ভেতরে। গল্পে মশগুল প্রহরীর ভ্রুক্ষেপ নেই সে দিকে। পিছু নিয়ে দেখা গেল, দোতলার ইন্টারনেট কক্ষই তাদের লক্ষ্য।

অনুধ্যান টিম তাদের আটকালে জানালো, বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী বুধপাড়া থেকে এসেছে, উদ্দেশ্য ইন্টারনেট ব্যবহার।

বহিরাগতরা এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে যাচ্ছে কিন্তু সেদিকে নজর নেই কারোই! বহিরাগত ওই স্কুল পড়–য়ারা আরো জানালো, তারা এখানে প্রায়ই আসে।

এছাড়াও হলগুলোর সামনে দীর্ঘ সময় নজরদারি করে অনুধ্যান টিম দেখেছে হলের সামনে রিকশা থামিয়ে চালক ঢুকে পড়ছেন, এছাড়াও হকাররা ঢুকছেন অবাধে। কে কখন ঢুকছে, কোথায় যাচ্ছে তার ওপর নেই সামান্য নিয়ন্ত্রণ। হলগেটের প্রহরায় পুলিশ থাকলেও তাদের হয় ফোনে নয়তো নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।

শুধু সোহ্রাওয়ার্দী হলেই নয়, বিনা বাধায় বহিরাগতদের অনুপ্রবেশের এমন চিত্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হল গেটেই। আর এই সুযোগে ঘটছে চুরিসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা।

গত দুই মাসে বিভিন্ন হল থেকে ১০টি ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে হলের ভেতরে শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনা নিরাপত্তার বিষয়কে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

এ ব্যাপারে প্রশাসনের তেমন কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। যদিও প্রশাসন বলছে, নিরাপত্তা ইস্যুতে কর্তৃপক্ষের চেয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভূমিকা বেশি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলে ও মেয়েদের জন্য মোট আবাসিক হল রয়েছে ১৭টি। এসব হলে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসিকতা রয়েছে। অথচ এতো বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তায় নেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। হলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে হলে প্রায়শই তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যাচ্ছে।

শুধু ল্যাপটপ চুরির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত দুই মাসে মাদার বখশ হলে ৩টি, শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ২টি, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ২টি, শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ১টি, মতিহার হলে ১টি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ১টি ল্যাপটপ চুরি হয়। এর সাথে সাইকেল ও মোবাইল চুরির ঘটনা তো রয়েছেই।

এতো গেলো চুরি-জোচ্চুরির ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে নিরাপত্তাহীনতায় হত্যাকা- পর্যন্ত ঘটে যাচ্ছে। ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর নবাব আব্দুল লতিফ হলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী লিপু খুন হন। কাদের হাতে লিপু খুন হলেন তা তিন মাসেও জানা যায়নি। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরনের শঙ্কা, উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল গেটে দর্শণার্থীদের নিবন্ধনের টেবিল ফাঁকা পড়ে আছে

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাইদুল আমিন সোহেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আবাসিক হল হলো আমাদের কাছে বাড়ির মতো, এখানে যদি নিরাপত্তা না থাকে তাহলে আমরা কোথায় যাবো?’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী জুলহাস মিয়া শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অবস্থানকালে মূল্যবান জিনিসপত্র এমনকি নিজের জীবন নিয়েও ভয়ে থাকি। এখন হলের ভেতরে ছাত্র খুন হচ্ছে। এসব পত্র-পত্রিকায় বা টিভিতে দেখে পরিবারও খুব উদ্বেগের মধ্যে থাকে। এমনকি তারা হল ছেড়ে মেসে পর্যন্ত চলে যেতে বলে।’ এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধান করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোর আবাসিক শিক্ষার্থীরাও। রহমতুন্নেসা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আফরিন বলেন, ‘হলের সামনে অনেক সময় বখাটে ছেলেদের আড্ডা দিতে দেখা যায়। এছাড়া হলের অভ্যন্তরেও বিভিন্ন সময় নানা ঘটনা ঘটে যেগুলো আমরা পরিবারকে সব সময় জানাই না। কারণ, তারা দুশ্চিন্তা করবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার এমন নাজুক পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন ছাত্রনেতারাও। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কর্মী ও সাবেক সভাপতি সোহরাব হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা দেওয়ায় দায়িত্ব প্রশাসনের। কিন্তু প্রশাসন এক্ষেত্রে ব্যর্থ।’

তিনি দাবি করেন, চুরির ঘটনায় কারা জড়িত, কোন সিন্ডিকেট এখানে কাজ করে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ প্রশাসনের জানার কথা। যদি তা নাও হয়, প্রশাসন আন্তরিক হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পুরোপুরি নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মজিবুল হক আজাদ খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘হলের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভালের জন্য হলে একটি আলাদা কর্তৃপক্ষ রয়েছে। বিষয়টি তারা দেখবে, তাদেরই দায়িত্ব।’ তবে হলে চুরি ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের আরো সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর।