Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষাবৃত্তির জন্য ৫০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাহবুবুল আলম রাজাবর্ণিল ও বিচিত্র আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপিত হয়েছেশেষ হলো সপ্তাহব্যাপী ডেটা জার্নালিজম কর্মশালা‘ ডেটা জার্নালিজম ইন নিউজরুম: হাউ টু ইউজ ডেটা ফর এ গুড স্টোরি‘ কর্মশালার পঞ্চম দিনে শিক্ষার্থীরা অনলাইন সংবাদ-সাইট থেকে ডেটা সংগ্রহ, ডেটা তৈরি এবং সে ডেটা আবার নতুন রূপে উপস্থাপন করার কৌশল শিখেছেন

দুর্গন্ধে ভরা একাডেমিক ভবনের ওয়াশরুম

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ০৮:০৯ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০১৭ বুধবার

এরকম ময়লা আর দুর্গন্ধে ভরা একাডেমিক ভবনের প্রায় সব ওয়াশরুম ও টয়লেট

এরকম ময়লা আর দুর্গন্ধে ভরা একাডেমিক ভবনের প্রায় সব ওয়াশরুম ও টয়লেট

অনুধ্যান প্রতিবেদন:

রবীন্দ্র ভবনের উত্তর-পূর্ব কোনের ওয়াশরুম। কয়েকজন শিক্ষার্থী নাকে মুখে হাত দিয়ে ঢুকছেন ভেতরে। বেশ খানিকটা এলাকা জুড়ে বিশ্রি রকমের গন্ধ। কোঁচকানো মুখ নিয়ে বের হয়ে দুই জন শিক্ষার্থী বিরক্তিভরা কণ্ঠে বললেন, নিতান্ত বাধ্য না হলে এই ওয়াশরুম ব্যবহার করতাম না। বাথরুমে এত দুর্গন্ধ আর ময়লা আবর্জনা, অথচ প্রশাসন কোনোই ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও জঘন্য।

 শুধু রবীন্দ্র ভবনের এই ওয়াশরুম নয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে যে আটটি একাডেমিক ভবন রয়েছে, তার প্রতিটিতেই একই অবস্থা। প্রতিটি ভবনেই রয়েছে কয়েকটি করে ওয়াশরুম। ক্লাস-পরীক্ষার ফাঁকে শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুম ও টয়লেট ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। অথচ অব্যবস্থাপনা আর অবহেলার কারণে দুর্গন্ধ ও ভোগান্তির সাথে নিয়মিত ব্যবহার করতে হয় শিক্ষার্থীদের।

 সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রবীন্দ্রভবনের উত্তর পূর্ব কোণের ওয়াশরুম ও টয়লেটের এখানে-ওখানে নোংরা ও দুর্গন্ধময় আবর্জনা পড়ে আছে। একটি মাত্র বেসিন তাও অপরিষ্কার। ময়লা-অবর্জনা ও টিস্যু ফেলার জন্য কোনো বক্স বা ঝুড়ি নেই। টয়লেটেও নেই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। নেই ব্লিচিং পাউডার বা দুর্গন্ধ নিরোধক (অডিনিল) কোনো ব্যবস্থা।

 প্রায় একই রকম অবস্থা শহীদুল্লাহ কলা ভবন, মমতাজ উদ্দীন কলা ভবন, ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ভবন ও তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের টয়লেটগুলোর। চতুর্থ বিজ্ঞান ভবনটি একদম নতুন হওয়ায় এবং প্রথম বিজ্ঞান ভবনের ওয়াশরুম নিয়মিত পরিস্কার করায় অন্যান্য ভবনের তুলনায় বেশ পরিষ্কার। কিন্তু সেখানেও নেই অডিনিল বা ন্যাপথালিন (সুগন্ধী ছড়ানোর ব্যবস্থা)।

 দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনে অবস্থিত পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তাদের দুটি বাথরুম রয়েছে। একটিতে সব সময় তালা ঝোলানো থাকে। যখন পিয়নদের দরকার পড়ে তখন তারা একটির তালা খুলে ব্যবহার করেন। আর অন্যটি তাদের ব্যবহারের প্রায় অনুপোযোগী। সেখানকার বেসিন দুটোই নষ্ট এবং টয়লেটও অপরিষ্কার। কিন্তু জেনেটিক্স ও পরিসংখখ্যান বিভাগের বাথরুমগুলো সব সময় পরিষ্কার থাকে। সেগুলোয় টাইলস বসানোর সাথে সাথে আধুনিকও করা হয়েছে।

 শহীদুল্লাহ কলা ভবনে ক্লাস করা ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, তাদের বিভাগের টয়লেটগুলোর অবস্থা একেবারে নাজেহাল। নিয়মিত টয়লেট পরিষ্কার করা হয় না। যদিও পরিষ্কার করা হয় সেটাও দীর্ঘ দিন পর পর। ফলে টয়লেটে মারাত্মক দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। টয়লেটে প্রবেশ করার মতো অবস্থা থাকে না।

 তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের টয়লেটও ততটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না। পর্যাপ্ত বেসিনও নেই। বেসিনের সামনে গ্লাসও নেই। তারা দ্রুত এগুলো মেরামত ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে নিয়মিত টয়লেট পরিষ্কার করার দাবি জানান।

 তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনেরই উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীবলেন, তাদের যে দুটো টয়লেট রয়েছে সেগুলো মোটামুটি উপযোগী। কিন্তু এই দুইটার মধ্যে একটি প্রায় সময় বন্ধ থাকে। তবে এটি ব্যবহার করে বিশেষ কিছু ব্যক্তি। আর অন্য টয়লেটটি একটি নির্দিষ্ট সময় খোলার পর দুপুর দেড়টার মধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে কোনো শিক্ষার্থী যদি ল্যাবে কাজ করে বা রিসার্চ করে তবে সে আর ঐ টয়লেট ব্যবহার করতে পারে না। এতে সৃষ্টি হয় ভোগান্তির।

 এমন অপরিচ্ছন্নতা ও দুর্গন্ধের কারণে নানা রোগ জীবাণু ছড়াতে পারে উল্লেখ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. এ এফ এম জাহিদ বলেন, ‘অপরিচ্ছন্নতা ও দুর্গন্ধের কারণে যদি মশা-মাছির উৎপাত হয় তবে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কেননা মশা-মাছির মাধ্যমে তখন জীবাণু ভেসে বেড়ায়। এর ফলে খাবার, হাতসহ বিভিন্নভাবে জীবাণু পরিবাহিত হয়ে যেকোনো সময় আক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক। পেটের রোগ ছাড়াও কলেরা, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি মারাত্মক রোগ ছড়াতে পারে।‘

 টয়লেট পরিস্কারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুয়ার্ড শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘একাডেমিক ভবনের বিষয়টি আমাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়। প্রতিটি ভবনেরই আলাদা আলাদা গার্ড, সুইপার আছে। ওই ভবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই ভালো বলতে পারবেন।‘

 এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড.  মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রশাসন ভবনে যারা আছেন তাদের আসলে দায়িত্ব এগুলো নয়। প্রতিটি বিভাগের অধীনে বাথরুমগুলো। সুতরাং তাদের দায়িত্ব এগুলো দেখা। এজন্য সেখানে ক্লিনার, গার্ড রয়েছে ।‘

 প্রতিবেদক দল:  মাহমুদুল হাসান ওয়ারেছ, মোহাম্মদ এরশাদ আলী, বাসুদেব পাল, দিলরুবা ইয়াসমিন, মোস্তাফিজুর রহমান, মো: মেসবাউল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, মো: মনিরুল ইসলাম, মো: মশিউর রহমান, মো: মোস্তাফিজুর রহমান