Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষাবৃত্তির জন্য ৫০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাহবুবুল আলম রাজাবর্ণিল ও বিচিত্র আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপিত হয়েছেশেষ হলো সপ্তাহব্যাপী ডেটা জার্নালিজম কর্মশালা‘ ডেটা জার্নালিজম ইন নিউজরুম: হাউ টু ইউজ ডেটা ফর এ গুড স্টোরি‘ কর্মশালার পঞ্চম দিনে শিক্ষার্থীরা অনলাইন সংবাদ-সাইট থেকে ডেটা সংগ্রহ, ডেটা তৈরি এবং সে ডেটা আবার নতুন রূপে উপস্থাপন করার কৌশল শিখেছেন

ডিজিটাল লাইব্রেরির সুবিধা থাকছে রাবি গ্রন্থাগারে: প্র. সামাদী

অনুধ্যান প্রতিবেদক

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ১০:২৭ পিএম, ২ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার

প্রফেসর ড. শফিকুন্নবী সামাদী

প্রফেসর ড. শফিকুন্নবী সামাদী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির ডিজিটালাইজেশনের কাজ শুরু হয়েছে ২০১৩ সাল থেকে। প্রায় ৮০ হাজার বইয়ের তালিকা ইতিমধ্যেই ডিজিটাল ক্যাটালগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্বের আধুনিক লাইব্রেরিগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে রাবির গ্রন্থাগারকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে অনুধ্যানের পক্ষ থেকে কথা হলো রাবি গ্রন্থাগারের প্রশাসক ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সফিকুন্নবী সামাদীর সঙ্গে।

অনুধ্যান: ডিজিটাল লাইব্রেরি বলতে আসলে কী বোঝানো হয়ে থাকে?

ড. সফিকুন্নবী সামাদী: ডিজিটাল লাইব্রেরি সম্পর্কে অনেকের মধ্যেই ভুল ধারণা রয়েছে। সবকিছুর ডিজিটাল কপি যদি পাই সেটাকেই আমরা বলি ডিজিটাল লাইব্রেরি। কিন্তু আমরা এখানে যা শুরু করেছি তা আরো ব্যাপক- ইন্টিগ্রেটেড লাইব্রেরি সিস্টেম (আইএলএস)। এখানে সব কিছুই ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে হবে।



অনুধ্যান: স্মার্টকার্ড বিষয়ে জানতে চাচ্ছিলাম।

ড. সফিকুন্নবী সামাদী: বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদেরকে নতুন করে যে আইডি কার্ড দেয়া হয়েছে সেটিই মূলত স্মার্টকার্ড। আগে যে লাইব্রেরি কার্ড ব্যবহার করা হতো তার পরিবর্তে স্মার্টকার্ড ব্যবহৃত হচ্ছে। এই স্মার্টকার্ডটিই আমরা লাইব্রেরি কার্ড হিসেবে এনডোর্স করে নিচ্ছি। এ মাধ্যমেই বই লেনদেন হচ্ছে।

অনুধ্যান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল লাইব্রেরির যাত্রা শুরু কবে থেকে?

ড. সফিকুন্নবী সামাদী: আমাদের আগে থেকেই এটার চিন্তা-ভাবনা ছিলো। ২০১৩ সালে আমরা এটা শুরু করি। ২০১৪ সালে বিশ্ব ব্যাংকের হেকেপ প্রকল্পের অধীনে আমরা তিন কোটি ২৯ লক্ষ টাকা পাই। যার আওতায় এখন আমাদের কাজ চলছে। এখানে ডাটা এন্ট্রি যেমন চলছে তেমনি চলছে আরএফআইডি’র কাজ। আমরা কোহা সফটওয়্যারের মাধ্যমে লাইব্রেরির কাজ করছি। লাইব্রেরি সায়েন্সের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছি যাতে সমগ্র বিশ্ব থেকে সকলে আমাদের লাইব্রেরির সম্পদ দেখতে পারে এবং ব্যবহারের মাধ্যমে কাজে লাগাতে পারে।

RU Library

অনুধ্যান: আরএফআইডি বিষয়টা একটু স্পষ্ট করবেন?

ড. সফিকুন্নবী সামাদী: আরএফআইডি’র মূল বিষটা হলো- প্রতিটি বইয়ে একটা করে ট্যাগ লাগানো থাকবে, যদি কেউ এন্ট্রি করে বই নিয়ে যায় তাহলে লাইব্রেরির মেইন গেটে কোনো সিগন্যাল দিবে না। আর যদি কেউ এন্ট্রি না করে বই নিয়ে যায় তবে লাইব্রেরির গেটে সিগন্যাল অর্থাৎ এলার্ম বাজবে। ফলে অবৈধভাবে কেউ বই নিয়ে যেতে পারবে না। এই পুরো সিস্টেমটাই এখন আমরা তৈরি করছি।

অনুধ্যান: ডিজিটাল লাইব্রেরির সুবিধা কী?

ড. সফিকুন্নবী সামাদী: আমাদের লাইব্রেরিতে যে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা রয়েছে তাদের কাজ অনেকটা কমে যাবে। একটা উদাহরণ দিচ্ছি। এখানে চেকইন চেকআউটের একটা যন্ত্র থাকবে। এখানে শিক্ষার্থীরা আসবে, কোনো বইযের ইস্যু কপি ও আইডি কার্ড যন্ত্রের উপর ফেলবে সাথে সাথে বই ইস্যু হয়ে যাবে। বই গননার ক্ষেত্রেরও র‌্যাকেটের মতো একটা যন্ত্র ব্যবহার করা হবে। বই সার্চের ক্ষেত্রেও অনেক সুবিধা হবে। বইটি লাইব্রেরিতে আছে কি না, কার কাছে আছে, কতোদিন ধরে আছে ইত্যাদি তথ্য গ্রাহক নিজেই পেয়ে যাবেন। বিশ্বের সকল ডিজিটাল লাইব্রেরির ক্ষেত্রে যেসব সুবিধা আছে, তা সব এখানে পাওয়া যাবে।

অনুধ্যান: সকলেই কী এই সুবিধা পাবে?

ড. সফিকুন্নবী সামাদী: না। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা এই তিন ধরনের প্যাট্রনরা বই ইস্যু করার সুবিধা পাবেন। কেবল তারা স্মার্টকার্ড বা আইডিকার্ড থাকলেই এ সুবিধা তিনি পাবেন।

অনুধ্যান: অনেকের মধ্যে এমন ধারণা আছে যে ডিজিটাল লাইব্রেরিতে বইয়ের পিডিএফ বা সফট কপি পাওয়া যায়, আসলে কি এমনটা?

ড. সফিকুন্নবী সামাদী: না। সারাবিশ্বে যেখানেই ডিজিটাল লাইব্রেরি আছে, সব কপির পিডিএফ বা সফটকপি পাওয়া যাবে কোথাও এমনটা নাই। বইয়ের কপিরাইট আছে। কারো অনুমতি না নিয়ে কোনো বইয়ের ডিজিটাল কপি করা যাবে না। তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যিালযের যেগুলো সম্পদ যেমন রিসার্চ পেপার বা থিসিস এগুলো আমরা পিডিএফ করে ওয়েবসাইটে দিতে পারবো। ইতোমধ্যে অর্ধেক থিসিস পেপার পিডিএফ করা হয়ে গেছে। বাকিটা কাজ চলছে। এছাড়াও সকল দাপ্তরিক কাগজপত্রের ডকুমেন্ট ডিজিটালি সংরক্ষণ করা হবে।

অনুধ্যান: ডিজিটাল লাইব্রেরি ও ওয়েবসাইট নিরাপত্তার ব্যাপারে আপনাদের কী পদক্ষেপ রয়েছে?

ড. সফিকুন্নবী সামাদী: আমাদের ক্যাটালগের নিরাপত্তা আমরা ইন্টার্নালি করছি। আমরা প্রতিদিন ক্যাটালগের ডাটা আলাদা একটি সার্ভারে রেখে দিচ্ছি। যার ফলে সার্ভার হ্যাক, ক্রাশড বা অন্য কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে আমারা ডাটা ট্রান্সফার করতে পারবো। তিন থেকে চার দিনের মধ্যে আমরা পুরোটা রিভাইভ করতে পারবো।

অনুধ্যান: মুক্তিযুদ্ধ রিসার্চ সেল নিয়ে যদি কিছু বলতেন।

ড. সফিকুন্নবী সামাদী: মুক্তি সংগ্রাম বিষয়ে সকল ফরম্যাটে তথ্য থাকেবে। প্রিন্টেড, ভিডিও, অডিও থাকবে। এগুলো দেখার জন্য স্ক্রিন ও এয়ারফোন থাকবে। এখানে সব ধরনের ডিজিটাল সুবিধা থাকবে।



অনুধ্যান: বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ইন্টারনেট সুবিধা ডিজিটাল লাইব্রেরির সাথে কতোটা সংগতিপূর্ণ?

ড. সফিকুন্নবী সামাদী: বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটওয়ার্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। তাছাড়া আমাদের যে ব্যান্ডউইথ কেনা হয় তাও পর্যাপ্ত। তবে বিটিসিএল এর কারণে মাঝে মাঝে সংযোগ বন্ধ থাকে। শিক্ষার্থীরা যদি পড়াশুনার কাজে ইন্টারনেট সুবিধা ব্যবহার করে তবে এ সুবিধা যথেষ্টই। আর লাইব্রেরির জন্য ডেডিকেটেড ব্যান্ডইউথ নিঃসন্দেহে পর্যাপ্ত।

অনুধ্যান:  আপনাদের ই-রিসোর্চ সম্পর্কে জানতে চাচ্ছিলাম।

ড. সফিকুন্নবী সামাদী: আমরা ই-রিসোর্চের ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে আছি। আমাদের অজস্র জার্নাল এবং পত্রিকা রয়েছে। এটি আমাদের ছাত্র এবং গবেষকদের জন্য বিশাল দ্বার উন্মোচোন করবে। আমাদের যে ইউনিভার্সিটি রিকুইজেটরি বিশেষ করে থিসিসগুলো ডিজিটাল করতে শুরু করে দিয়েছি। স্ক্যান করছি। 3এখন যারা থিসিস জমা দিচ্ছে আমরা তাদের কাছ থেকে সফট কপি নিয়ে রাখছি। এগুলো পরে আমরা আপলোড করে দিবো। ফলে আমাদের ডিজিটাল লাইব্রেরি কমপ্লিট হবে। আমাদের ক্যাটালগ ডিজিটাল করার ব্যবস্থা হয়ে গেছে। এখন ডেটা এন্ট্রির কাজ চলছে। ইতোমধ্যে আমরা অপারেশনে চলে গেছি। স্মার্টকার্ডের মাধ্যমেই সব কাজ হচ্ছে।

অনুধ্যান: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা পদক্ষেপ নিয়ে কিছু বলুন।

ড. সফিকুন্নবী সামাদী: আমরা তো ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে পারছি না, বর্তমানটাকেই দেখছি। আমাদের টার্গেট হলো ২০১৭ সালের মধ্যে পুরোপুরি অপারেশন, ডিজিটাল মেটেরিয়াল ও ক্যাটালগ কমপ্লিট করবো। ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যেই আমরা লাইব্রেরির সমস্ত বই ডিজিটাল ক্যাটালগের মধ্যে নিয়ে আসতে পারবো। আশা করি ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে সম্পূ্র্ণ ডিজিটাল লাইব্রেরি অর্থাৎ আইএলএস এর আওতায় চলে আসবে।

অনুধ্যান: ধন্যবাদ আপনাকে।

ড. সফিকুন্নবী সামাদী: আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার ওয়েবসাইট