Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষাবৃত্তির জন্য ৫০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাহবুবুল আলম রাজাবর্ণিল ও বিচিত্র আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপিত হয়েছেশেষ হলো সপ্তাহব্যাপী ডেটা জার্নালিজম কর্মশালা‘ ডেটা জার্নালিজম ইন নিউজরুম: হাউ টু ইউজ ডেটা ফর এ গুড স্টোরি‘ কর্মশালার পঞ্চম দিনে শিক্ষার্থীরা অনলাইন সংবাদ-সাইট থেকে ডেটা সংগ্রহ, ডেটা তৈরি এবং সে ডেটা আবার নতুন রূপে উপস্থাপন করার কৌশল শিখেছেন

গবেষণাখাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হোক

অনুধ্যান প্রতিবেদক

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ০৯:১২ পিএম, ২ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার

গবেষণাখাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হোক

গবেষণাখাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হোক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের ২১তম সভায় ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ২৯৪ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকার বিপরীতে সিন্ডিকেটে অনুমোদিত বাজেটের পরিমাণ ২২৯ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। অনুমোদিত বাজেটের সিংহভাগ অর্থই ব্যয় হবে অনুন্নয়ন খাতেÑ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা বাবদ। মাত্র ০.১১ শতাংশ অর্থ গবেষণাপ্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন হলো, গবেষণা খাতে নামমাত্র অর্থ বরাদ্দ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন জ্ঞান কীভাবে সৃষ্টি হবে? অনুমোদিত বাজেট গবেষণাবান্ধব নয়। নতুন জ্ঞান সৃজন ও  দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার স্বার্থেই গবেষণাখাতে ব্যয় বাড়াতে হবে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের একটি সাপ্তাহিক এশিয়ার উপরের সারির একশোটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। তালিকাটি প্রকাশ করার অন্যতম মানদ- ছিল শিক্ষার মান ও গবেষণা। অথচ আমাদের দেশে শিক্ষার মান ও গবেষণা ক্রমাগত নি¤œমুখি। এর অন্যতম কারণ শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ হ্রাস পাওয়া। প্রতিবছর জাতীয় বাজেটের আকার বাড়লেও আনুপাতিক হারে অর্থ বরাদ্দ বাড়েনি শিক্ষায়। যার প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয় তার সামান্য অংশই থাকে গবেষণাখাতে। রাবির অনুমোদিত বাজেটে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা-পেনশনে ব্যয় হবে ১৮৯ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা অর্থাৎ মোট বাজেটের প্রায় ৮৩ শতাংশ। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে ব্যয় হবে ১৪ কোটি ৯৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা (মোট বাজেটের প্রায় ৬ শতাংশ)। অন্যদিকে গবেষণাখাতে বরাদ্দ মাত্র মাত্র ০.১১ শতাংশ (২৫ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা)। এই নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে ৩০ হাজার শিক্ষার্থী ও ১২০০ শিক্ষকের এই বিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়টি গবেষণা করা সম্ভব? সামান্য এই বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় এতই অপ্রতুল যে তা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে
খুব একটা সহায়ক হবে না। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমাজ-রাষ্ট্র-বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবন করবে নতুন জ্ঞান। সেই জ্ঞান ছড়িয়ে পড়বে সবখানে। বিশ্ববিদ্যালয় এক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে এমনটাই কাম্য। এজন্য গবেষণাখাতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাখাত বরাবরই অবহেলিত থেকে যাচ্ছে।

আমরা মনে করি, দেশ ও জাতি গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানকে সামনে রেখে গবেষণায় পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া জরুরি। গবেষণাকে অবজ্ঞা নয়, বরং বিবেচনা করা উচিত অগ্রাধিকার খাত হিসেবে। আমরা চাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় সৃষ্টিশীল ভূমিকা রেখে জাতিগঠনে সামনে এগিয়ে যাক। আর এজন্য গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তাই নামমাত্র বরাদ্দ নয়, গবেষণাখাতে যৌক্তিক বরাদ্দ দিতে হবে।