Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
পরীক্ষার সাত মাস পরেও ফল প্রকাশ না হওয়ার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষাক্রম বিষয়ে আলোচনারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নিউজলেটার বিদ্যাবার্তা’র দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছেতিস্তা নদীতে খনন ও বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীরারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বষের্র ভর্তি-পরীক্ষা আগামী ২০-২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে

ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানি ও নারীর বোবা কান্না

অনুধ্যান প্রতিবেদক

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ০৯:৫০ পিএম, ২ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার

ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানি ও নারীর বোবা কান্না

ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানি ও নারীর বোবা কান্না

বাংলাদেশের প্রতিটি নারীকে কমবেশি ঘরে ও বাইরে নিপীড়ন-লড়াই-বৈষম্যের মধ্য দিয়ে জীবন পার করতে হয়। এ যেন স্রোতের বিপরীতে পাড়ি জমানোর মতো ঘটনা, বাংলাদেশে এমন নারীর সংখ্যাই অধিক। আমাদের এখানে বখাটে বা মাস্তানদের হয়রানি, নির্যাতন বা হামলার শিকার হতে হয়নি, এমন তরুণী খুঁজে পাওয়া কঠিন। বর্তমান সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও নিরাপদ নয় বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই ধরনের নির্যাতনের খবর দেখে বিস্মিত হতে হয়।

দিনকে দিন যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের ঘটনা বেড়েই চলছে। পিছিয়ে নেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও। উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ নামের একটি কমিটি থাকলেও খুব বেশি তৎপরতা নেই এই কমিটির।

কর্মকর্তা, শিক্ষক থেকে শুরু করে স্থানীয় ক্যাডার, কে নেই নিপীড়কের তালিকায়! সামাজিক মর্যাদার কথা ভেবে অধিকাংশ নারী নিজের ভেতরে চেপে রাখেন বোবা কান্না। দু’একজন ভুক্তভোগী নারী যৌন নিপীড়নের ঘটনায় প্রতিবাদী হয়ে উঠলেও ৮০ শতাংশ নারীই দিনের পর দিন মুখ বুঝে এসব নিপীড়ন সহ্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা সহজ-সরল নারী শিক্ষার্থীরা এখানে পদে পদে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কালেভদ্রে দু’একজন অভিযোগ করলেও অপরাধীরা শাস্তি পেয়েছেন এমন নজির দেখা মেলা ভাড়। মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে অভিযোগপত্র। তাছাড়া এসব ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করতে হয় অনেক প্রক্রিয়া মেনে। পরবর্তী সময়ে লোক দেখানো কিছু পদক্ষেপ নিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে না কর্তৃপক্ষ- এমন অভিযোগও আছে অনেকের।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক ক্যাডার, প্রভাবশালী ব্যক্তি, সন্ত্রাসী, ছাত্র সংগঠনের নেতা কিংবা প্রভাবশালী কোনো শিক্ষক তাহলে প্রতিকার পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে যায়। নিপীড়নকারীরা এতটাই শক্তিশালী যে অনেক সময় অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে উল্টো অপবাদ দেয়া হয়ে থাকে। একাডেমিকভাবে হেনস্থা করারও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অভিযোগকারীকেই হল থেকে বের করে দেয়ার নজির রয়েছে।

২০১১ সালে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটি গঠন হলেও এখন পর্যন্ত খুব বেশি অভিযোগের ব্যাপারে সুরাহা হয় নি। গত চার বছরে কমিটির কাছে ২০টিরও অধিক অভিযোগ লিখিতভাবে জমা পড়লেও কমিটি ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে দুই থেকে তিনটির। বাকি গুলোর ব্যাপারে কী হবে তা অভিযোগকারীদের অনেকেই বুঝতে পারছেন না।

অস্বীকার করা উপায় নেই, উৎকন্ঠা নিয়ে দিনের পর দিন লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে দূর দুরান্ত থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা নারী শিক্ষার্থীরা।

বর্তমান সরকার প্রধান একজন নারী, বিরোধীদলীয় সংসদ নেত্রী একজন নারী। অপর একটি বড় দলের নেত্রীও একজন নারী। বর্তমানে নারীদের অধিকার সংরক্ষিত হওয়ার কথা সর্বাগ্রে। কিন্তু আমরা প্রতিনিয়তই দেখছি পথে-ঘাটে, রাস্তায়, অফিসে-আদালতে, স্কুল-কলেজে, মিটিং-মিছিলে, বাড়িতে এবং পার্কেও নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে। আমাদের দেশের নারীরা আধুনিক ডিজিটাল যুগেও অসহায়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও অসহায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য ক্যাম্পাসকে নিরাপদ রাখতেই হবে। অথচ যৌন হয়রানির মতো ঘটনা নারীর স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই শিক্ষার্থীদের সচেতনতা ও যথাযথ আইন প্রনয়ণের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।