Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
পরীক্ষার সাত মাস পরেও ফল প্রকাশ না হওয়ার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষাক্রম বিষয়ে আলোচনারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নিউজলেটার বিদ্যাবার্তা’র দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছেতিস্তা নদীতে খনন ও বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীরারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বষের্র ভর্তি-পরীক্ষা আগামী ২০-২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে

ইন্টারনেটের কচ্ছপগতি

অনুধ্যান প্রতিবেদক

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ০৯:১৬ পিএম, ২ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার

ইন্টারনেটের কচ্ছপগতি

ইন্টারনেটের কচ্ছপগতি

লোডিং … লোডিং … তোর ডাউনলোড স্পিড এতো কম যে আমি আসতে আসতে বুড়ি হয়ে গেছি! বিজ্ঞাপনচিত্রের মতো এতোটা বেহাল দশা না হলেও, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলোতে ইন্টারনেটের গতির অবস্থা তেমন সুখকর নয়। রাবির আবাসিক হলগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও তা না থাকারই মতো। একটি পেজ খুলতে লেগে যায় অনেক সময়।

দুর্বল ইন্টারনেট সেবায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল হওয়ার স্বপ্ন এখন নড়বড়ে। ইন্টারনেট ব্রাউজার খুলে দীর্ঘ সময় ধরে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। কচ্ছপগতির ইন্টারনেটে সংযোগ পেতেও তাদের বেশ ধৈর্য্যরে পরিচয় দিতে হচ্ছে। এ কারণে তথ্য-প্রযুক্তিসমৃদ্ধ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার স্বপ্ন হোঁচট খাচ্ছে।

অথচ ওয়াই-ফাই ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট অংকের টাকা নেওয়া হয়। ইন্টারনেটের এই গতিতে অতিষ্ঠ হয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন ও একাধিকবার লিখিতভাবে অভিযোগ করলেও বরাবরের মতোই উদাসীন কর্তৃপক্ষ।

ওয়াই-ফাইয়ের গতি সম্পর্কে শহীদ হবিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী লুৎফর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিস্মিত হয়ে বলেন, ‘ভাই যা অবস্থা তাতে তো ওয়াই-ফাই শব্দটাই ভুলতে বসেছি। একটা পেজ ওপেন হতে ১০ মিনিট লেগে যায়। বিরক্ত হয়ে তো রাউটারই কিনে ফেলেছি, তবে তাতেও কোনো লাভ নেই, কারণ গতিই নেই।

মাদার বখ্শ হলের শিক্ষার্থী ইকরামুুল হক সবুজ বলেন, ‘এটা করার কোনো মানেই হয় না। যদি বলে দেয় যে ওয়াই-ফাই সংযোগ পাবে না তাহলেই তো ল্যাঠা চুকে গেলো, নামকাওয়াস্তে সংযোগ দিয়ে রাখার অর্থ কী?

আক্ষেপ ঝরে পড়লো বঙ্গবন্ধু হলের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ এর কন্ঠেও। তিনি বলেন, ‘টাকা নেওয়ার সময় ঠিকই নেয়, আর কাজের সময় নাই। এভাবে তো চলতে পারে না। একটা সাইটেও ঢুকতে পারছি না!

ছেলেদের হলের চেয়ে মেয়েদের হলের অবস্থা আরো করুণ। তাপসী রাবেয়া হলের সানজিদা সিলভি বলেন, ‘হলের অধিকাংশ রাউটারই তো নষ্ট। আর যে ব্রডব্যান্ড ছিলো, ওয়াই-ফাই সংযোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটিও তুলে নেওয়া হয়।’

১৯৮৫ সালে রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয় কম্পিউটার সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৯৫ সালে ড্রিক আইসিটি লিমিটেড নামে একটি কোম্পানির যৌথ ব্যবস্থাপনায় রাবিতে প্রথম অফনেট ইন্টারনেট সংযোগ চালু হয়। তখন সেই সুবিধা কেবল হাতে গোনা কিছু বিভাগ বা শিক্ষকরা পেতেন। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আরো দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০০১ সালে ল্যান সংযোগ চালু হয় এবং ২০০৪ সালের শেষের দিকে সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানির তত্ত্ব¡াবধায়নে ভিস্যাট সংযোগে ৫১২ কেবিপিএস গতির ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু করা হয়। এরপর ২০১১ সালের গোড়ার দিকে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তা ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উচ্চ শিক্ষায় মান উন্নয়ন প্রকল্পের (হেকেপ) তত্ত্বাবধানে ‘এক্সটেনশন অ্যান্ড রিনোভেশন অব নেটওয়ার্ক অ্যান্ড বিল্ডিং অটোমেটেড অফিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নেয় রাবি প্রশাসন। এ প্রকল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা ডিজিটাল আইডি কার্ড, শিক্ষকদের আবাসিক কোয়ার্টারসহ ১৬টি হলের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য ব্যক্তিগত ইন্টারনেট সুবিধা রাখার কথা উল্লেখ করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ
টাকা। হলের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে ব্রডব্যান্ড (তারযুক্ত ইন্টারনেট) সংযোগের মাধ্যমে ২০১২ সালের গোড়ার দিকে ১৬টি আবাসিক হলে ইন্টারনেট সুবিধা প্রথমে চালু করা হয়।

কিন্তু বছর না গড়াতেই নি¤œমানের সংযোগ ও আসবাবপত্র ব্যবহার করার কারণে এখন এসব কক্ষে শিক্ষার্থীরা তেমন একটা যাচ্ছেন না বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর একই বছরের শেষের দিকে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে পর্যায়ক্রমে চালু হতে থাকে ওয়াই-ফাই সংযোগ। প্রথমদিকে সব ঠিক থাকলেও বেশিরভাগ রাউটার নষ্ট হওয়ায় ওয়াইফাই ব্যবহার করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের। লিখিতভাবে ইন্টারনেট নিয়ে দুর্ভোগের কথা হল প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো কাজ হয় নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

ইন্টারনেট সংযোগ বাবদ প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১৮০ টাকা করে আদায় করা হয়। অথচ টাকা দিয়েও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন না বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই। এদিকে হলের বাইরে থাকা প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী এই ইন্টারনেট সুবিধা ব্যবহার করতে পারছেন না। অথচ, প্রতিবছর তাদেরও একই পরিমাণ টাকা দিতে হচ্ছে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা। বিনোদপুরে একটি মেসে থাকেন পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ। তিনি বলেন, ‘আমার কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ব্যবহার করার মতো ফোন নেই। অথচ আমাকেও তো টাকা দিতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ড. খাদেমুল ইসলাম মোল্যা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে নিম্নমানের রাউটার দিয়ে ইন্টারনেট সুবিধা দিতে গিয়েই শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হল প্রশাসনকে আমাদের সাথে বসে এ বিষয়ে কার্যকরী একটি পদক্ষেপ নিতে বারবার তাগাদা দিয়েও কাজ হয় নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান সজল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সমস্যা আছে সেটা আমিও জানি। মাঝে মাঝে আমি নিজেও এই সমস্যায় পড়ে যাই। তাই আমরা চেষ্টা করছি খুব দ্রুত এই অবস্থা থেকে উত্তরণের। কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।