Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষাবৃত্তির জন্য ৫০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাহবুবুল আলম রাজাবর্ণিল ও বিচিত্র আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপিত হয়েছেশেষ হলো সপ্তাহব্যাপী ডেটা জার্নালিজম কর্মশালা‘ ডেটা জার্নালিজম ইন নিউজরুম: হাউ টু ইউজ ডেটা ফর এ গুড স্টোরি‘ কর্মশালার পঞ্চম দিনে শিক্ষার্থীরা অনলাইন সংবাদ-সাইট থেকে ডেটা সংগ্রহ, ডেটা তৈরি এবং সে ডেটা আবার নতুন রূপে উপস্থাপন করার কৌশল শিখেছেন

আধুনিক ক্যাম্পাস নির্মাণে ৩৬৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প

অনুধ্যান প্রতিবেদক

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ১১:০৯ পিএম, ২ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার

আধুনিক ক্যাম্পাস নির্মাণে ৩৬৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প

আধুনিক ক্যাম্পাস নির্মাণে ৩৬৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প

অনুধ্যান প্রতিবেদন: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা-ের জন্য ৩৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। একনেকে অনুমোদন হওয়ার পর প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে।

চার বছর মেয়াদী এ উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ছাত্রীদের জন্য ‘শেখ হাসিনা’ ও ছাত্রদের জন্য ‘শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান’ নামে ১০ তলা বিশিষ্ট দু’টি আবাসিক হল। শিক্ষকদের জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন, ২০ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, চারতলা বিশিষ্ট শেখ রাসেল মডেল স্কুল নির্মাণ।

গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চার বছর মেয়াদী এ প্রকল্পের অনুমোদন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের মধ্যে আরো রয়েছে নির্মাণাধীন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল তিনতলা থেকে ছয়তলা, কৃষি অনুষদ, সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ও চতুর্থ বিজ্ঞান ভবনের নির্মাণ পূর্ণাঙ্গ করা, কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন শীততাপ নিয়ন্ত্রিত করা এবং পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক উন্নত করা। এছাড়া ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে চারপাশের দেওয়াল সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে প্রকল্পে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) প্রকল্পটি পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঞ্জুরি কমিশন যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। প্রায় এক বছর পর প্রকল্পটি একনেকের সভায় উত্থাপন করা হলে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, আমরা সব সময় বিশ্বাস করি যে, বিশাল একটি অঞ্চলের অন্যতম যে বৃহৎ একটি বিশ্ববিদ্যালয়- সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি খুব স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার মান সহ শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন একটি পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হবে। প্রায় ষাট বছরের একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এখানে শিক্ষার মান যেমন জরুরী তেমনিভাবে জরুরী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত ভৌত অবকাঠামোগত সুবিধা। যাতে শিক্ষার্থীরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে জ্ঞান চর্চা করতে পারে। অতীতে সেভাবে আমরা এই জায়গাটা গভীরভাবে কোনো মহলে উপস্থাপন করতে পারিনি বিধায় আমরা উন্নয়নের জায়গা থেকে যত মাত্রায় হওয়া উচিত ছিল সেই মাত্রায় আমরা উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারিনি। আমরা প্রশাসনে দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই বিষয়টি অনুধাবন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক কিংবা সামগ্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের জন্য যে বিষয়গুলো খুব জরুরী ছিল সে বিষয়গুলো আমরা সামনে রেখেছিলাম এবং সেটার আলোকে আমরা সরকারের কাছে উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলাম।

উপউপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিকতা খুব জরুরী ছিল। এবং একই সাথে বৃহৎ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পাঠ দানের যে অসুবিধা যেমন ক্লাশরুম সংকট আমাদের কাছে খুব জরুরী বিষয় ছিল। একই সাথে গবেষণার বিষয়টি এবং শিক্ষকদের গবেষণার স্থান ইত্যাদি বিষয় আমাদের সামনে ছিল।

এর পাশাপাশি যেটা খুব জরুরি ছিল যে, দীর্ঘ দিনের পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হল কিংবা শিক্ষকদের আবাসনের যে বিষয়টা সেটা অত্যন্ত পুরাতন হওয়ায় সেগুলো সংস্কার এর বোঝা আমাদের কাছে ছিল। আমরা সমস্ত কিছু মাথায় রেখেই যে কাজটি করেছি সেটা হলো যে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে একাডেমিক ভবনগুলো আছে সেগুলোর অসম্পূর্ণ যে কাজগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরে আছে সেগুলো সম্পন্ন হবে।

প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান আরো বলেন, আমরা ভাবছি যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যে গবেষণার পরিবেশ সেটা কিভাবে উন্নয়ন করা যায় ̶  এই ভাবনার জায়গাটি থেকেই আমরা এই ধরনের একটি বড় প্রকল্পের কথা ভেবেছিলাম। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারের কথা ভেবেছি এবং অভিভাবক হিসেবে মাননীয় প্রধনমন্ত্রী যেভাবে ভেবেছেন ইত্যাদি সব মিলিয়েই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি আধুনিক জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা, যোগ্যতা এবং জবাবদিহিতার ওপর জোর দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কাজে ডিজিটালাইজেশনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা- দ্রত বাস্তবায়ন করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা যাতে ভালোভাবে পড়াশোনা ও গবেষণা কাজ করতে পারে সেজন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। এরই অংশ হিসেবে অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা-ে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে।

প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭