Anudhyan Mass Communication and Journalism
University of Rajshahi
A practice news portal of Department of Mass Communication & Journalism of University of Rajshahi
শিরোনাম
মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষাবৃত্তির জন্য ৫০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাহবুবুল আলম রাজাবর্ণিল ও বিচিত্র আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপিত হয়েছেশেষ হলো সপ্তাহব্যাপী ডেটা জার্নালিজম কর্মশালা‘ ডেটা জার্নালিজম ইন নিউজরুম: হাউ টু ইউজ ডেটা ফর এ গুড স্টোরি‘ কর্মশালার পঞ্চম দিনে শিক্ষার্থীরা অনলাইন সংবাদ-সাইট থেকে ডেটা সংগ্রহ, ডেটা তৈরি এবং সে ডেটা আবার নতুন রূপে উপস্থাপন করার কৌশল শিখেছেন

অলিম্পিয়ান শিরিনের স্বপ্ন ছোঁয়ার গল্প

অনুধ্যান প্রতিবেদন

অনুধ্যান

প্রকাশিত : ১১:২৪ পিএম, ২ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার

রাবি’র শিক্ষার্থী শিরিন আক্তারের হাতেই উড়ছে দেশের পতাকা

রাবি’র শিক্ষার্থী শিরিন আক্তারের হাতেই উড়ছে দেশের পতাকা

ছোটোবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো প্রথম হবার। স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তা-ই হতেন। তাতে খুশি হতেন আর আরও কিছু করার স্বপ্ন দেখতে থাকতেন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) যখন সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হলেন তখন তার স্বপ্ন যেনো আরো বিস্তৃত হলো। ধীরে ধীরে এগিয়ে তিনি। এক পর্যায়ে দেশের প্রতিটি দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করাটাই যেনো নিয়মে পরিণত করে ফেললেন। বিকেএসপির গণ্ডি পেরিয়ে তিনি ভর্তি হলের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এখন তিনি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি শিরিন আকতার। উচ্চ শিক্ষায় এগিয়ে কিন্তু মনের ভেতরে তার নতুন স্বপ্ন। লক্ষ্য তার অলিম্পিকে! অবশেষে শিরিন আক্তার নামের এই মেয়েটির পায়ের তলায় অলিম্পিকের মাঠ কেঁপেছে গত বছর (২০১৬ রিও অলিম্পিক)। দেশের গর্ব শিরিন আকতার। কিন্তু তাকে নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বটা যেনো অনেক বেশি।

তবে শিরিনের এ স্বপ্ন লালনের পথটি মসৃন ছিলো না। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের গোয়াহাটিতে এসএ গেমস-এ ১০০ মিটার দৌড়ে ১১.৯৯ করে ব্রোঞ্জ পদক জিতে অলিম্পিকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা অর্জন করলেও অলিম্পিকে অংশগ্রহণের ওয়াইল্ড কার্ড পেলেন না। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের উদ্যোগে সেই সুযোগটি পেয়ে যান শিরিন আকতার। তবে ব্রাজিল থেকে অলিম্পিকে ফল না পেলেও এবার চোখ ফেলে রেখেছেন ২০২০ সালে জাপানের অনুষ্ঠেয় অলিম্পিকে। নিজের স্বপ্ন ধরে আনতে চান শিরিন।

শিরিন আকতার ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের ন্যাশনাল গেমসেই কেবল সেরা দৌড়বিদ নয় ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে সামার ও ন্যাশনাল গেমসে ২০১৪ সাল থেকে শুরু করে টানা তিন বছর ধরে দেশের প্রথম স্থান ধরে রেখেছেন বাংলাদেশের দ্রুততম এ মানবী।

যেকোনো গেমসের জন্য প্রতিদিন সকাল-বিকাল চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা চর্চা করতে হয় শিরিনকে। কিন্তু তাকে এই অনুশীলন চালাতে বেশ বেগই পেতে হচ্ছে। কারণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এই শিক্ষার্থীর কিছুদিন আগে শেষ হলো দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এখন শুরু হয়েছে তৃতীয় বর্ষের ক্লাস। এ নিয়ে শিরিনের ভাষ্য, ‘ক্লাস-পরীক্ষা আর গেমসের অনুশীলন, সব মিলিয়ে খুব কঠিন সময় যাচ্ছে। রাজশাহী-ঢাকা জার্নির ওপরে আছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা রাজশাহী ছেড়ে অনুশীলনের জন্যে বারবার ঢাকায় ছুটতে হয় কেনো এমন প্রশ্ন করলে শিরিন বলেন, ‘অ্যাথলেটিক্সের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ রাজশাহীতে নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুশীলন করি কিন্তু সেটা আশানুরূপ হয় না। কারণ আমাদের তো আর ট্র্যাক নাই। যেটা অ্যাথলেটিক্সে দরকার। ট্র্যাকে প্র্যাক্টিস করতে পারলে ভালো হয়। কারণ ট্র্যাকেই তো আমাদের খেলা হয়। সেজন্যই প্রশিক্ষণস্থল বিকেএসপিতে যেতে হয়।’

স্বপ্নের অলিম্পিকে শিরিন

ব্রাজিলের রিও’র অলিম্পিক তখন গোরদোড়ায়। কিন্তু শিরিন সেখানে খেলতে পারবেন কিনা সেটা নিয়ে ছিলো বেশ সংশয়। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনও নিশ্চয়তা দিতে পারেনি কিছুই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিরিন আকতার শেষ হাসিটাই হেসেছেন। ফেডারেশনের চেষ্টায় অবশেষে তিনি হাতে পেয়েছেন অলিম্পিকে খেলার জন্য ওয়াইল্ড কার্ড। এতোকিছুর পরও অলিম্পিকে যে তিনি ভালো করেছেন তা নয়। কারণ সেখানে তার নিজের করা রেকর্ডের (১২.৯৯) চেয়েও ১ সেকেন্ড বেশি সময় নিয়ে ফেলেছেন।

তবে হতাশ হননি শিরিন আকতার। স্বপ্নের কাছে গিয়েও স্বপ্ন ধরতে না পারা শিরিন বলেন, ‘আমি জানি আমি কি হারিয়েছি। একটু খারাপ তো লাগবেই। তারপরও আমার মনে হয়, যদি আরো বেশিদিন ক্যাম্প চলতো হয়তো আমি আরো বেশি চর্চা করতে পারতাম। তখন হয়তো আমার হিটে প্রথম-দ্বিতীয় হতে পারতাম। তবে যতোটুকু হয়েছে তাতেই আমি খুশি।’

অলিম্পিকে বাংলাদেশ দলে শিরিন আকতার

অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেন শিরিন আকতার। এখনও সেই দিনগুলোকে স্বপ্ন বলে মনে হয় তার। তবে সবশেষে নিজের দেশকে যে সারাবিশ্বের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন এটাকেও কম পাওয়া বলে মনে করেন না শিরিন।

বিশ্ব খেলাধুলার সেরা আসরে খেলতে গিয়ে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে শিরিন আকতারের। যা খেলাধুলার পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবনকেও নাকি প্রভাবিত করেছে। ‘আসলে ওটা ছিলো বিশ্বের নামকরা সব তারকাদের আসর। একটা উৎসব উৎসব আমেজ। ওদের ব্যবহার, কথাবার্তা অবিশ্বাস্য রকমের ভালো লাগে। এছাড়া অনেকে বিখ্যাত তারকা হয়েও যেনো তেমন কোনো গর্ব নেই তাদের। সবমিলে মনে হতো ওরা যেনো আমার অনেক আগে থেকে পরিচিত। ওদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে, শিখেছিও’ জানান শিরিন আকতার।

এছাড়া রিওতে খেলতে গিয়ে যেসব তারকাদের সঙ্গে পরিচয় তাদের একজন তো ভালো বন্ধুও হয়েগেছে বলে জানান শিরিন। সেই বন্ধু আবার সাধারণ কেউ নন। অলিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড়ে দুইবার স্বর্ণপদক পাওয়া জ্যামাইকার শেলিয়ার ফ্রেশার। তার সঙ্গে কীভাবে বন্ধুত্ব হলো এমন প্রশ্নোত্তরে শিরিন জানান, ‘দৌড়বিদদের মধ্যে ও আমি ওকে ভীষণ অনুকরণ করি। অন্যভাবে দেখলে ও আমার আদর্শই বলা যায়। তবে বন্ধুত্বের শুরু ব্রাজিলে গিয়েই। অলিম্পিকে অনুশীলনের সময় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা আমরা এক সঙ্গে থাকতাম। আমার অনুশীলন নিয়েও ও খোঁজখবর রাখতো। আমাকে বেশ উৎসাহ দিয়েছে সে। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবেও তাকে আমি পছন্দ করি।’

সফলতার অন্দরমহল
শিরিন আক্তার ও জ্যামাইকান বন্ধুবাংলাদেশ অনেক আগে থেকেই অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করছে। কিন্তু সফলতা তো দূরের কথা প্রতিবছর সব ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণই করতে পারে না। এতো পিছিয়ে থাকার কারণ অনেক। তবে যারা অংশগ্রহণ করে তাদের সফলতার মুখ না দেখার কারণ হিসেবে শিরিন আকতার মনে করেন, ‘বাইরের দেশের খেলোয়াড়রা আমাদের থেকে অনেক বেশি চর্চা করে, বিষয়টা সেরকম নয়। কিন্তু প্রশিক্ষণের জন্যে ওদের সুযোগসুবিধা অনেক বেশি।’

তবে অন্যদেশে খেলোয়াড়দের পুষ্টি, প্রশিক্ষণের জন্য যেসব প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, টেকনিক আর দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ; সেগুলোর জন্যই ওরা বেশি ভালো করে। এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ না দেওয়ার কারণে আমাদের দেশের খেলোয়াড়রা বড়ো বড়ো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে বলে মনে করেন শিরিন আকতার। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেই। কিন্তু বিদেশে প্রতিটি খেলার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নীবিড় প্রশিক্ষণ চলে। ভাবলে অবাক লাগে, ২০২৪ সালে কারা অলিম্পিক খেলবে তাদের এখন থেকেই চর্চা, প্রশিক্ষণ এখন থেকেই অনেক দেশে শুরু হয়ে গেছে বলে জানান শিরিন আকতার।

তবে এবারের অলিম্পিকে ভালো না করতে পারলেও শিরিন স্বপ্ন দেখে আগামী অলিম্পিকের। আর দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ, পর্যপ্ত মানসিক সাহায্য ও সবার অনুপ্রেরণায় তিনি সেই অসাধ্য সাধন ঠিক করতে পারবেন বলেও আশা ব্যক্ত করেন।